বিসিবি প্রধানের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনেই নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা পরিষ্কার করলেন তামিম ইকবাল। বিসিবির অ্যাডহক কমিটির এই প্রধান সাফ জানিয়ে দিলেন, বোর্ডের আগামী নির্বাচনে তিনি অংশ নেবেন। একই সঙ্গে দেশের সব ক্রিকেট সংগঠক ও সাবেক ক্রিকেটারদেরও এই নির্বাচনে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার বিসিবি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শুরুতে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন তামিম। এরপর বোর্ডের নবনিযুক্ত মুখপাত্র তানজিল চৌধুরী সভার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী কোনো প্রশ্নোত্তর পর্ব থাকার কথা না থাকলেও, সাংবাদিকদের বিশেষ অনুরোধে একটি প্রশ্নের উত্তর দেন তামিম। সেখানেই তিনি নিশ্চিত করেন যে, আসন্ন বিসিবি নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হচ্ছেন।
স্মর্তব্য যে, বিসিবির গত নির্বাচনেও অংশ নিতে চেয়েছিলেন তামিম ইকবাল এবং মনোনয়নপত্রও জমা দিয়েছিলেন। কিন্তু তৎকালীন নির্বাচনে সরকারি হস্তক্ষেপ ও নানাবিধ অনিয়মের অভিযোগ তুলে তিনিসহ আরও অনেক যোগ্য প্রার্থী শেষ মুহূর্তে সরে দাঁড়িয়েছিলেন। সেই বিতর্কিত নির্বাচনেই জয়ী হয়ে সভাপতি হয়েছিলেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। সম্প্রতি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সেই নির্বাচনের কারচুপি খতিয়ে দেখতে তদন্ত কমিটি গঠন করে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। সেই কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই আমিনুলের বোর্ড ভেঙে দিয়ে তামিমকে প্রধান করে ১১ সদস্যের এই অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আপাতত এই কমিটির প্রধান লক্ষ্য হলো তিন মাসের মধ্যে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা। বোর্ড সভা শেষে তামিম বলেন, “অবশ্যই আমরা নির্বাচন করব। এখানে আমার ইচ্ছা থাকতে পারে, আমি নির্বাচন করতে পারি। আবার আমার কমিটির অন্য কারো ইচ্ছা থাকতেও পারে, নাও থাকতে পারে। যখন একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে, তখন শুধু আমরা নই, যারা যারা আগ্রহী সবাইকে অনুরোধ করব অংশগ্রহণ করতে।”
দেশের সফলতম এই ওপেনার আরও যোগ করেন, “বোর্ডের নির্বাচনে ক্রিকেটার ও সংগঠক—সবারই অংশ নেওয়া উচিত। আমরা এমন একটি সুন্দর পরিবেশ তৈরি করে দিয়ে যেতে চাই, যেখানে সবাই নির্ভয়ে এসে নির্বাচন করতে পারবে।” তবে নির্বাচনের সময় তিনি বর্তমান পদে বহাল থাকবেন কি না, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু জানাননি।