বিগ ব্যাশ লিগের মালিকানা বেসরকারি খাতে ছেড়ে দেওয়ার (বেসরকারিকরণ) ইস্যুতে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সাথে একমত হতে পারছে না নিউ সাউথ ওয়েলস ও কুইন্সল্যান্ড। রাজ্য দল দুটির এমন অনড় অবস্থানে এখন বেশ জটিল এক পরিস্থিতির মুখে পড়েছে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এখন দেখার বিষয়, সব রাজ্যের সমর্থন ছাড়াই সিএ এই প্রক্রিয়া নিয়ে এগোবে কি না।
বেসরকারিকরণের পরবর্তী ধাপ হিসেবে ক্লাবগুলোর বাজারমূল্য যাচাই করার প্রস্তাব দিয়েছিল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। এর পক্ষে সমর্থন দেওয়ার জন্য রাজ্যগুলোকে বুধবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, বিপিএল পুরোপুরি বেসরকারি মালিকানায় চলে গেলে প্রায় ৬০-৮০ কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলার আয় হতে পারে।
মঙ্গলবার রাতে এক বোর্ড সভার পর কুইন্সল্যান্ড জানিয়েছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে বেশ কিছু বিষয়ে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার কাছ থেকে আরও স্পষ্ট ব্যাখ্যা চায় তারা। অন্যদিকে, নিউ সাউথ ওয়েলস সরাসরি এই মডেলের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। সিইও লি জারমন বুধবার সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা এখনও মনে করি না যে ক্লাবগুলো বিক্রি করে দেওয়া সঠিক কোনো সমাধান। তবে আমরা ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সাথে একমত যে, বিগ ব্যাশে বিনিয়োগ প্রয়োজন এবং এর প্রচার বাড়াতে হবে।”
জারমন আরও যোগ করেন, ক্লাব বিক্রি না করেও টিকিটিং, স্পন্সরশিপ এবং জুয়া (বেটিং) সংক্রান্ত ক্ষেত্রগুলো থেকে বিকল্প আয়ের পথ বের করা সম্ভব। তাদের বড় ভয় হলো, বাইরে থেকে বিনিয়োগকারী এলে ক্রিকেটের পুরো ইকোসিস্টেম বা কাঠামোর ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে, কারণ বাণিজ্যিক স্বার্থে বিনিয়োগ করা ব্যক্তিদের লক্ষ্য আর ক্রিকেটের উন্নতির লক্ষ্য সবসময় এক নাও হতে পারে।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সিইও টড গ্রিনবার্গ অবশ্য জানিয়েছেন, তারা রাজ্যগুলোর উদ্বেগ নিয়ে আলোচনার জন্য প্রস্তুত এবং একটি সহযোগিতামূলক পরিবেশের মাধ্যমেই সমাধানে পৌঁছাতে চান।
এরই মধ্যে আলোচনায় এসেছে আগামী বিগ ব্যাশ সিজনের উদ্বোধনী ম্যাচ ভারতের চেন্নাইয়ে আয়োজন করার বিষয়টি। সিডনি থান্ডারের প্রায় অর্ধেক সমর্থক আইপিএলের চেন্নাই সুপার কিংসকেও অনুসরণ করে—এমন তথ্য দিয়ে লি জারমন বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে সিডনির মাটিতে একটি ম্যাচ কমে যাবে কি না, তা নিয়ে কিছুটা দ্বিধাও প্রকাশ করেছেন তিনি।
সব মিলিয়ে বেসরকারিকরণ ইস্যু এখন অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে এক বড় স্নায়ুযুদ্ধের জন্ম দিয়েছে। একদিকে সিএ-র আর্থিক উন্নয়নের বিশাল পরিকল্পনা, অন্যদিকে রাজ্যগুলোর ক্রিকেটীয় ঐতিহ্য ও কাঠামো ধরে রাখার তাগিদ।