গত মাসেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন সরফরাজ আহমেদ। এর মধ্যেই নির্বাচক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে এবার পেলেন বড় বড় পদোন্নতি—পাকিস্তান টেস্ট দলের নতুন কোচ এখন তিনি। আসন্ন বাংলাদেশ সফর দিয়েই কোচ হিসেবে সাবেক এই অধিনায়কের নতুন পথচলা শুরু হতে যাচ্ছে।
সরফরাজের সাথে কোচিং প্যানেলে যোগ দিচ্ছেন আরও দুই পরিচিত মুখ। ব্যাটিং কোচের দায়িত্ব পেয়েছেন আসাদ শাফিক এবং বোলিং কোচের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সাবেক গতিদানব উমর গুলকে। ৩৮ বছর বয়সী সরফরাজ কোচের দায়িত্ব নিতে পারেন বলে গুঞ্জন ছিল আগে থেকেই, অবশেষে সেটিই সত্যি হলো। আসাদ শাফিক এর আগে নির্বাচক হিসেবে কাজ করেছেন, আর উমর গুল দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন দলে কোচ ও পরামর্শকের ভূমিকা পালন করে আসছেন।
নতুন কোচিং স্টাফের পাশাপাশি ১৬ জনের পাকিস্তান স্কোয়াডে জায়গা করে নিয়েছেন চারজন নতুন মুখ—আব্দুল্লাহ ফাজাল, আজান আওয়াইস, আমাদ বাট ও মুহাম্মাদ গাজি ঘোরি। এদের মধ্যে কেবল গাজি ঘোরির আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলার অভিজ্ঞতা আছে; গত মাসে বাংলাদেশের বিপক্ষে একটি ওয়ানডে খেলেছিলেন তিনি। বাকিদের মধ্যে ২১ বছর বয়সী আজান আওয়াইসকে ধরা হচ্ছে পাকিস্তানের দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ কাণ্ডারি। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৩৩ ম্যাচে ১০টি সেঞ্চুরি করে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন তিনি।
সবশেষ দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের দল থেকে এবার বাদ পড়েছেন আব্দুল্লাহ শাফিক, আবরার আহমেদ ও আমির জামালের মতো নিয়মিত খেলোয়াড়রা। তবে দলে ফিরেছেন অভিজ্ঞ সুইং বোলার মোহাম্মাদ আব্বাস। পেস আক্রমণে তার সঙ্গী হিসেবে থাকছেন শাহিন শাহ আফ্রিদি, হাসান আলি ও খুররাম শাহজাদ। স্পিন আক্রমণে বাংলাদেশের জন্য বড় হুমকি হতে পারেন সাজিদ খান। ২০২১ সালের মিরপুর টেস্টে এক ইনিংসে ৮ উইকেটসহ ম্যাচে ১২ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে ধসিয়ে দিয়েছিলেন তিনি।
বর্তমানে ইমাম-উল-হক, নোমান আলি ও সাজিদ খানসহ ৫ ক্রিকেটার লাহোরে জাতীয় ক্রিকেট একাডেমিতে কন্ডিশনিং ক্যাম্প করছেন। পিএসএলের ব্যস্ততা শেষে বাকিরা আগামী ২ মে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেবেন। তবে যারা ৩ মে পিএসএলের ফাইনাল খেলবেন, তারা সরাসরি সেখান থেকেই ঢাকায় দলের সঙ্গে যোগ দেবেন।
আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের গুরুত্বপূর্ণ এই সিরিজের প্রথম ম্যাচটি মিরপুরে শুরু হবে ৮ মে থেকে। এরপর ১৬ মে দ্বিতীয় টেস্টের জন্য দুই দল যাবে সিলেটে।
পাকিস্তান টেস্ট স্কোয়াড
শান মাসুদ (অধিনায়ক), আব্দুল্লাহ ফাজাল, আমাদ বাট, আজান আওয়াইস, বাবর আজম, হাসান আলি, ইমাম-উল-হক, খুররাম শাহজাদ, মোহাম্মাদ আব্বাস, মোহাম্মাদ রিজওয়ান, মুহাম্মাদ গাজি ঘোরি, নোমান আলি, সাজিদ খান, সালমান আলি আগা, সাউদ শাকিল ও শাহিন শাহ আফ্রিদি।