জোরের ওপর আসা প্রথম বলটিতে জায়গা বের করতে পারেননি তাওহিদ হৃদয়, রানও আসেনি। কিন্তু সেই রক্ষণাত্মক রূপ স্থায়ী হলো মাত্র কয়েক সেকেন্ড। পরের ওভারেই বেন লিস্টারকে বাউন্ডারি মেরে ডানা মেললেন, স্লগ সুইপে ইশ সোধিকে ওড়ালেন গ্যালারিতে, আর জশ ক্লার্কসনকে দারুণ শটে পাঠালেন সীমানার বাইরে। শুরুর সেই বিধ্বংসী মেজাজ ধরে রেখেই শেষ পর্যন্ত দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়লেন এই তরুণ তুর্কি। ম্যাচ শেষে হৃদয় পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন, আজ কোনো জড়তা নয়, বরং শুরু থেকেই প্রতিপক্ষকে দুমড়ে-মুচড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েই তিনি ক্রিজে গিয়েছিলেন।
নিউজিল্যান্ডের দেওয়া ১৮৩ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে এক পর্যায়ে বাংলাদেশের অবস্থা বেশ নড়বড়ে ছিল। ৯ ওভারে দলের রান ছিল মাত্র ৬৬। কিন্তু পরের ৯ ওভারেই দৃশ্যপট বদলে যায়, স্কোরবোর্ডে জমা হয় আরও ১১৭ রান! ২৭ বলে ৫১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা হওয়া হৃদয় প্রথম বলটির পর আর মাত্র একটি ডেলিভারিতে রান নিতে ব্যর্থ হয়েছেন।
মাঝপথে পারভেজ হোসেন ইমনের ১৪ বলে ২৮ রানের ক্যামিও আর শেষ দিকে শামীম হোসেনের ১৩ বলে ৩১ রানের টর্নেডো ইনিংস জয়ের পথ সহজ করে দেয়। ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে হৃদয় বলেন, টপ অর্ডার দ্রুত ফিরে যাওয়ায় মিডল অর্ডারের ওপর বাড়তি চাপ ছিল এবং তিনি সেই চ্যালেঞ্জটাই নিতে চেয়েছিলেন।
হৃদয় বলেন, “এটা দলীয় খেলা। কোনোদিন পাওয়ার প্লে ভালো হবে, কোনোদিন হবে না। যেদিন ওপরের ব্যাটাররা রান পাবে না, সেদিন মিডল অর্ডারের দায়িত্ব অনেক বেড়ে যায়। আমরা আজ সেই ঘাটতিটা পুষিয়ে দিতে পেরেছি।”
সাধারণত উইকেটে গিয়ে কিছুটা সময় নিলেও আজ সেই বিলাসিতা করার সুযোগ ছিল না হৃদয়ের সামনে। তিনি যখন মাঠে নামেন, জয়ের জন্য ওভারপ্রতি ১০ রানের বেশি দরকার ছিল। পরিস্থিতির দাবি মেনেই মারমুখী ব্যাটিং শুরু করেন তিনি। তাঁর মতে, “লিটন ভাই আউট হওয়ার পর যখন নামলাম, দেখলাম রান রেট বেড়ে গেছে। আমার পরিষ্কার পরিকল্পনা ছিল আক্রমণ করা। কারণ ওই সময়ে আক্রমণ না করলে ম্যাচটা আমাদের হাত থেকে ফসকে যেত। টি-টোয়েন্টিতে দুই-তিন ওভার ভালো করলেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়, আমি শুধু সেটাই চেষ্টা করেছি।”
তানজিদ হাসান আউট হওয়ার পর যখন স্কোরবোর্ডে ৭৭ রান, তখন কাজটা অসম্ভব মনে হচ্ছিল। কিন্তু হৃদয় নিজের ও সতীর্থদের ওপর আস্থা হারাননি। তিনি বলেন, “আমাদের দলে এখন যারা আছে, সবারই প্রায় ৩০টির বেশি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা আছে। এমন পরিস্থিতিতে যদি আমরা ম্যাচ জেতাতে না পারি, তবে সেটা দলের জন্য ভালো লক্ষণ নয়। ব্যাটার হিসেবে আমাদের এই দায়ভার নিতেই হবে।”
পারভেজ ইমনের সঙ্গে তাঁর ২৮ বলে ৫৭ রানের জুটিটিই মূলত নিউজিল্যান্ডকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয়। ইমনের ইনিংসটি নিয়ে হৃদয় বলেন, “অ্যাটাক ইজ দ্য বেস্ট ডিফেন্স—এই মন্ত্রেই আমরা খেলেছি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কুঁকড়ে থাকলে চলে না। ইমন আজ খুব স্বচ্ছ ধারণা নিয়ে ব্যাটিং করেছে এবং ওর প্রয়োগটাও ছিল দুর্দান্ত।”