মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে রোদ-বৃষ্টির লুকোচুরি চলল দিনভর, কিন্তু বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে কেবল আঁধারই নামল। শুরুটা দারুণ বোলিং আর ফিল্ডিং দিয়ে নিউজিল্যান্ড যেমন চেপে ধরেছিল, শেষটা বেভন জ্যাকবসের ব্যাটে তারা রাঙাল দাপুটে জয়ে। ফলে সিরিজ জয়ের সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করে ১-১ সমতায় সন্তুষ্ট থাকতে হলো লিটন দাসের দলকে।
বৃষ্টিবিঘ্নিত এই ম্যাচে ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন পদ্ধতিতে নিউজিল্যান্ড জিতেছে ৬ উইকেটে। ১৫ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে বাংলাদেশ ১০২ রানেই গুটিয়ে গিয়েছিল। জবাবে ২০ বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছে যায় কিউইরা।
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা মন্দ ছিল না বাংলাদেশের। কিন্তু অভিষিক্ত স্পিনার জেডেন লেনক্স নিজের ক্যারিয়ারের প্রথম বলেই সাইফ হাসানকে (১৬) ফিরিয়ে ধসের সূচনা করেন। এরপর নাথান স্মিথের জোড়া আঘাতে তানজিদ হাসান ও পারভেজ হোসেন দ্রুত বিদায় নিলে চাপে পড়ে স্বাগতিকরা। বৃষ্টির কারণে প্রায় দুই ঘণ্টা খেলা বন্ধ থাকার পর তাওহিদ হৃদয় (৩৩) ও লিটন দাস (২৬) প্রতিরোধের চেষ্টা করলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। শেষ দিকে মাত্র ১৬ রানের ব্যবধানে ৬ উইকেট হারিয়ে ১০২ রানেই অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ। কিউই বোলার জশ ক্লার্কসন মাত্র ৯ রান দিয়ে নেন ৩টি উইকেট।
১০৩ রানের ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শরিফুল ইসলামের তোপে পড়েছিল নিউজিল্যান্ডও। নিজের প্রথম দুই ওভারেই ৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট তুলে নিয়েছিলেন এই বাঁহাতি পেসার। ৩৩ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে কিউইরা যখন কাঁপছিল, তখনই ত্রাতা হয়ে দাঁড়ান বেভন জ্যাকবস ও ডিন ফক্সক্রফট। তাদের অবিচ্ছিন্ন ৭১ রানের জুটি নিউজিল্যান্ডকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেয়। জ্যাকবস ৩১ বলে ৬২ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলে ম্যাচ সেরা হন। সিরিজে দারুণ ব্যাটিং করা তাওহিদ হৃদয় হয়েছেন সিরিজ সেরা।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
- বাংলাদেশ: ১৪.২ ওভারে ১০২ (হৃদয় ৩৩, লিটন ২৬, সাইফ ১৬; ক্লার্কসন ৩/৯, স্মিথ ২/১৪, সিয়ার্স ২/১২)
- নিউজিল্যান্ড: (লক্ষ্য ১৫ ওভারে ১০৩) ১১.৪ ওভারে ১০৪/৪ (জ্যাকবস ৬২*, রবিনসন ২৩; শরিফুল ৩/১৯, মেহেদী ১/২০)
- ফল: নিউজিল্যান্ড ৬ উইকেটে জয়ী (ডিএলএস পদ্ধতি)
- সিরিজ: ১-১ সমতায় শেষ।