মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনটা বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও দ্বিতীয় দিনে দৃশ্যপট পুরোপুরি বদলে গেছে। পাকিস্তানের দুই তরুণ তুর্কি, আজান আওয়াইস ও আব্দুল্লাহ ফাজালের ব্যাটে ভর করে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে সফরকারীরা।
দিনের শেষ বলটি হওয়ার পর আম্পায়ার যখন বেলস ফেলে দিলেন, তখন পাকিস্তানের দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যানের চোখেমুখে ছিল তৃপ্তির হাসি। ড্রেসিংরুমের পথে হাঁটা দেওয়ার সময় সতীর্থদের করতালিতে যেভাবে তাঁরা অভিনন্দিত হলেন, তাতেই স্পষ্ট যে দিনটি ছিল তাঁদেরই। বাবর আজম চোটের কারণে শেষ মুহূর্তে ছিটকে না গেলে হয়তো আজান ও ফাজালের একজনের অভিষেকই হতো না। কিন্তু সুযোগ পেয়েই তাঁরা প্রমাণ করলেন কেন তাঁদের পাকিস্তানের ভবিষ্যতের সম্পদ ভাবা হয়।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের জন্য দিনটি ছিল চরম হতাশার। ৪ উইকেটে ৩০১ রান নিয়ে দিন শুরু করা স্বাগতিকদের প্রথম ইনিংস থামে ৪১৩ রানে। ৩৯তম জন্মদিনে মুশফিকুর রহিম ৭১ রানের এক লড়াকু ইনিংস খেললেও মোহাম্মাদ আব্বাসের ৫ উইকেটের তোপে বড় সংগ্রহের স্বপ্ন ফিকে হয়ে যায়। ব্যাটিংয়ের সেই অস্বস্তি পরে বোলিংয়েও ছড়িয়ে পড়ে। দেড় বছর পর ফেরা তাসকিন আহমেদ কিংবা গতির ঝড় তোলা নাহিদ রানা—কারও বোলিংয়েই আজ ধার ছিল না।
পাকিস্তানের দুই ওপেনার শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন। ইমাম-উল-হক ৪৫ রানে আউট হলেও আজান আওয়াইস ৮৫ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। তাঁর ১৩৩ বলের ইনিংসে ছিল ১২টি দৃষ্টিনন্দন চার। তিন নম্বরে নামা আব্দুল্লাহ ফাজালও শুরুটা সতর্কভাবে করলেও পরে দারুণ কিছু শটে ৩৭ রানে অপরাজিত থাকেন। ১ উইকেটে ১৭৯ রান নিয়ে দিন শেষ করা পাকিস্তান এখন বড় লিডের পথে।
সকালে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে মুশফিক ও লিটনের জুটির ওপর অনেক আশা ছিল। মুশফিক ফিফটি করলেও লিটন দাসের উইকেট ছুঁড়ে আসার পুরোনো রোগ আবার দেখা দেয়। মোহাম্মাদ আব্বাসের একের পর এক আঘাতে ধসে পড়ে লোয়ার অর্ডার। শেষ দিকে তাসকিনের ১৯ বলে ২৮ রানের ক্যামিও ইনিংসের কল্যাণে স্কোরবোর্ড চারশ পার হয়। তবে দিন শেষে সেই সংগ্রহকে আর নিরাপদ মনে হচ্ছে না।