সবশেষ পাঁচ টেস্টের মধ্যে চারটি সেঞ্চুরি—নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাটে যেন রান করার মেশিন বসানো হয়েছে! শুধু টেস্ট নয়, ওয়ানডেতেও তিনি এখন সেঞ্চুরি করছেন নিয়মিত। সেঞ্চুরির পর শান্ত যখন মাঠের মাঝখানে নিজের চেনা ভঙ্গিতে উদযাপন করছিলেন, তখন ঠিক উল্টো প্রান্তে দাঁড়িয়ে তা দারুণভাবে উপভোগ করছিলেন মুমিনুল হক। উদযাপন শেষ হতেই অধিনায়ককে পরম মমতায় বুকে জড়িয়ে ধরলেন তিনি। শান্তর এই রাজকীয় ইনিংসটির সাক্ষী হয়ে মুমিনুল উপলব্ধি করছেন, সতীর্থ শান্ত এখন তাঁর ক্যারিয়ারের সোনালী সময় পার করছেন।
পাকিস্তানের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনে শান্ত ও মুমিনুলের ১৭১ রানের জুটিটিই মূলত বাংলাদেশকে ম্যাচে ফিরিয়ে এনেছে। তৃতীয় উইকেটে এই দুজনের রসায়ন নতুন কিছু নয়। এর আগে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেই রেকর্ডগড়া ২৪২ রানের জুটিও এসেছিল তাঁদের ব্যাট থেকেই। পরিসংখ্যান বলছে, তৃতীয় উইকেটে এই জুটি এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৩০০ রান যোগ করেছে, যেখানে বাংলাদেশের অন্য কোনো জুটি ৭০০ রানের গণ্ডিও পেরোতে পারেনি।
মিরপুরের সবুজ উইকেটে যখন দুই ওপেনারকে দ্রুত হারিয়ে বাংলাদেশ ধুঁকছিল, তখন শান্তর পাল্টা আক্রমণই সব চাপ ধুয়েমুছে সাফ করে দেয়। দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে মুমিনুল অকপটে স্বীকার করলেন সেই অবদানের কথা। তিনি বলেন, “নতুন বলে এই উইকেটে চ্যালেঞ্জ ছিল অনেক বেশি। শান্ত যেভাবে কাউন্টার অ্যাটাক করেছে, তাতে পাকিস্তানি বোলাররা ঘাবড়ে গিয়েছিল। এই কৃতিত্ব পুরোপুরি শান্তর।”
১২টি চার ও ২টি ছক্কায় ১৩০ বলে ১০১ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন শান্ত। অন্যদিকে সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়ে ৯১ রানে থামতে হয় মুমিনুলকে। শান্তর ব্যাটিং নিয়ে মুগ্ধতা প্রকাশ করে মুমিনুল বলেন, “ক্যারিয়ারের শুরুতে তামিম ভাইয়ের ব্যাটিং নন-স্ট্রাইকিং প্রান্ত থেকে দারুণ উপভোগ করতাম। শান্ত আজ ঠিক তেমনই ব্যাটিং করেছে। আমার চোখে দেখা ওর সেরা ইনিংসগুলোর একটি এটি।”
পাকিস্তানের পেসার মোহাম্মদ আব্বাসের ইনসুইং আর মুভমেন্ট সামলাতে শান্ত এক বিশেষ কৌশল নিয়েছিলেন—ক্রিজের বেশ বাইরে দাঁড়িয়ে ব্যাটিং করা। মুমিনুল জানালেন, এটি ছিল আব্বাসকে থিতু হতে না দেওয়ার একটি সুপরিকল্পিত ছক। শান্তর এই ধারাবাহিকতা দেখে মুমিনুল মনে করেন, তাঁর সতীর্থ এখন ফর্মের তুঙ্গে আছেন। তবে এই ফর্ম ধরে রাখতে শান্তকে সবসময় “পা মাটিতে রাখা”র এবং মানসিকতা ঠিক রাখার পরামর্শ দিয়েছেন এই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান।