চলমান কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে চোট পাওয়া ক্রিকেটারের বদলি (সাবস্টিটিউট) সংক্রান্ত নিয়মের তীব্র সমালোচনা করেছেন জেমস অ্যান্ডারসন। ইংল্যান্ডের এই কিংবদন্তি পেসার এই নিয়ম প্রয়োগের প্রক্রিয়া নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন।
এবারের কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে পরীক্ষামূলকভাবে এই নিয়মটি চালু করেছে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। নিয়ম অনুযায়ী, কোনো ক্রিকেটারের বদলি হিসেবে যাকে নেওয়া হবে, তাকে অবশ্যই ‘লাইক-ফর-লাইক’ বা সমমানের হতে হবে। অর্থাৎ ব্যাটসম্যানের বদলে ব্যাটসম্যান এবং বোলারের বদলে বোলার। কিন্তু অ্যান্ডারসনের দল ল্যাঙ্কাশায়ার এই নিয়মের মারপ্যাঁচে পড়ে দুবার বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতির শিকার হয়েছে।
প্রথম ঘটনাটি ঘটে গ্লস্টারশায়ারের বিপক্ষে। ল্যাঙ্কাশায়ারের ক্রিকেটার মিচেল স্ট্যানলি পিঠের ব্যথার কারণে ছিটকে গেলে তারা টম বেইলিকে নিতে চেয়েছিল। কিন্তু ম্যাচ রেফারি পিটার সাচ এতে আপত্তি জানান, কারণ বেইলি ‘খুব ভালো বোলার’। ফলে ল্যাঙ্কাশায়ার বাধ্য হয়ে অন্য এক শহর থেকে ট্যাক্সিতে করে অলি সাটনকে উড়িয়ে আনে, যার পৌঁছাতে তিন ঘণ্টা সময় লেগে যায়।
পরের ঘটনাটি আরও অদ্ভুত। ডারহামের বিপক্ষে অফ স্পিনিং অলরাউন্ডার আরাভ শেঠির আঙুল ভেঙে গেলে ল্যাঙ্কাশায়ার বাঁহাতি স্পিনার টম হার্টলিকে বদলি হিসেবে নামাতে চায়। কিন্তু এবারও বাধা আসে এই বলে যে, হার্টলি ‘বেশি অভিজ্ঞ’। শেষ পর্যন্ত তারা একজন কিপার-ব্যাটসম্যানকে মাঠে নামায়, যিনি কোনোভাবেই ‘লাইক-ফর-লাইক’ ছিলেন না।
এই বিষয়গুলো নিয়ে ‘টেইলএন্ডার্স পডকাস্ট’-এ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অ্যান্ডারসন। তিনি বলেন, “আমি জানি না নিয়মগুলো আসলে কী। আমার মনে হয় রেফারিরা শুধু ক্রিকইনফো আর পরিসংখ্যান দেখে সিদ্ধান্ত নেন। শেঠির আঙুল তিন জায়গায় ভেঙে গিয়েছিল, অথচ আমাদের বলা হলো হার্টলিকে নেওয়া যাবে না কারণ সে বেশি অভিজ্ঞ! বিষয়টা একদম বোকামি।”
৪৩ বছর বয়সী এই পেসার আরও যোগ করেন, “এই ব্যবস্থাটা তো করা হয়েছে বিপদের সময় সঠিক বদলি পাওয়ার জন্য। কিন্তু আমাদের সাথে যা হচ্ছে তা পুরোপুরি অযৌক্তিক।” টেস্ট ক্রিকেট থেকে বিদায় নিলেও নিজের ২৬তম পেশাদার মৌসুম খেলা অ্যান্ডারসন রসিকতা করে বলেন, এই নিয়মের যা অবস্থা, তাতে অভিজ্ঞতার কারণে তিনি হয়তো কখনোই কারও বদলি হিসেবে মাঠে নামার অনুমতি পাবেন না।