মিরপুর টেস্টের চতুর্থ দিনে আজ ব্যাট হাতে দারুণ এক কীর্তি গড়লেন মুমিনুল হক। বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংসে লড়াকু এক হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন তিনি, যা তার টেস্ট ক্যারিয়ারের ২৬তম ফিফটি। ৫৬ রান করে সাজঘরে ফিরলেও একটি জায়গায় তিনি নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন—টেস্টে এই নিয়ে টানা পাঁচ ইনিংসে পঞ্চাশোর্ধ রান করলেন মুমিনুল।
মুমিনুলের এই স্বপ্নের ফর্ম শুরু হয়েছিল গত বছরের নভেম্বরে আয়ারল্যান্ড সিরিজ থেকে। সেই সিরিজের তিন ইনিংসেই তিনি ফিফটির দেখা পেয়েছিলেন। এরপর সিলেটে একমাত্র ইনিংসে করেন ৮২ রান। আর মিরপুরের চলতি টেস্টে তো তিনি রীতিমতো অপ্রতিরোধ্য; প্রথম ইনিংসে ৯১ করার পর দ্বিতীয় ইনিংসেও করলেন ৫৬ রান।
তামিমের পাশে মুমিনুল
টানা পাঁচ ইনিংসে হাফসেঞ্চুরি করার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে, বাংলাদেশের আর কেউ কি এই নজির গড়েছেন? উত্তর হলো—হ্যাঁ, তামিম ইকবাল। ২০১০ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মার্চ থেকে জুনের মধ্যে টানা পাঁচ ইনিংসে পঞ্চাশোর্ধ রান করেছিলেন দেশসেরা এই ওপেনার। সেই যাত্রায় লর্ডস ও ম্যানচেস্টারের সেই ঐতিহাসিক দুই সেঞ্চুরিও ছিল তামিমের ব্যাটে।
রেকর্ডের বরপুত্র
টানা ফিফটির এই অভ্যাস মুমিনুলের জন্য অবশ্য নতুন কিছু নয়। ক্যারিয়ারের শুরুতে ২০১৩ ও ২০১৪ সাল মিলিয়ে টানা ১১টি টেস্টে ফিফটি করার অবিশ্বাস্য এক রেকর্ড গড়েছিলেন তিনি। বাংলাদেশের আর কোনো ব্যাটসম্যানের এমন কীর্তি নেই। সে সময় আর মাত্র একটি ম্যাচে ফিফটি করতে পারলেই তিনি বিশ্বরেকর্ড ছুঁয়ে ফেলতেন। টানা ১২ টেস্টে ফিফটির সেই বিশ্বরেকর্ডটি তখন ছিল দক্ষিণ আফ্রিকান কিংবদন্তি এবি ডি ভিলিয়ার্সের দখলে, যা পরে গড়েছেন জো রুটও।
বিশ্ব মঞ্চে টানা ফিফটির রেকর্ড
টেস্ট ক্রিকেটে টানা সর্বোচ্চ ৭ ইনিংসে অন্তত একটি করে ফিফটি করার বিশ্বরেকর্ডটি যৌথভাবে ছয়জনের দখলে। তারা হলেন:
- এভারটন উইকস ও শিবনারায়ণ চন্দরপল (ওয়েস্ট ইন্ডিজ)
- কুমার সাঙ্গাকারা (শ্রীলঙ্কা)
- ক্রিস রজার্স (ইংল্যান্ড)
- অ্যান্ডি ফ্লাওয়ার (জিম্বাবুয়ে)
- লোকেশ রাহুল (ভারত)
এই ছয়জনের মধ্যে সাঙ্গাকারা ও উইকস সর্বোচ্চ তিনটি করে সেঞ্চুরি করেছিলেন। উল্লেখ্য, সাঙ্গাকারার সেই সেঞ্চুরিগুলোর একটি ছিল ট্রিপল সেঞ্চুরি, যা তিনি করেছিলেন এই বাংলাদেশের বিপক্ষেই।