মিরপুর টেস্টের চতুর্থ দিনটি ছিল পুরোপুরিই অনিশ্চয়তার। সকালে দারুণ শুরুর পর ড্রেসিংরুমে হয়তো জয়ের অনেক ছক কষা হয়েছিল—কত রান করলে নিরাপদ থাকা যাবে কিংবা কত দ্রুত ইনিংস ঘোষণা করা যায়। কিন্তু বৃষ্টির বাগড়ায় সব সমীকরণ যেন ওলটপালট হয়ে গেল। পুরো একটি সেশন বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ার পর দিনের শেষ ভাগে আলোকস্বল্পতায় কেড়ে নিল আরও বেশ কিছু ওভার। ফলে লাঞ্চের সময় জয়ের যে জোরালো সম্ভাবনা জেগেছিল, দিনশেষে তা অনেকটাই ফিকে হয়ে এসেছে।
চতুর্থ দিনে খেলা হতে পেরেছে মাত্র ৪৮.৪ ওভার। ৩ উইকেটে ১৫২ রান তুলে দিন শেষ করেছে বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসের লিডসহ টাইগাররা এখন ১৭৯ রানে এগিয়ে। জয়ের জন্য নিরাপদ পুঁজি গড়তে হলে শেষ দিনে অন্তত আরও এক সেশন ব্যাটিং করতে হবে শান্তদের। আর সেটি করতে গেলে হাতে সময় কমে আসায় ম্যাচ জেতার সুযোগও অনেকটা কমে যাবে।
শান্ত-মুমিনুলের প্রতিরোধ
ব্যাটিং যতটুকু হয়েছে, সেখানে যথারীতি দাপট দেখিয়েছেন প্রথম ইনিংসের দুই সফল ব্যাটসম্যান। নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুমিনুল হক ম্যাচে দ্বিতীয়বারের মতো গড়েন শতরানের জুটি। দুইবার জীবন ফিরে পেয়ে ৫৬ রান করে আউট হন মুমিনুল। এই ইনিংস খেলার পথেই দেশের তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ৫ হাজার টেস্ট রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন তিনি। প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান শান্ত অপরাজিত আছেন ৫৮ রানে।
শুরুতে ধাক্কা ও বৃষ্টির হানা
সকালে বাংলাদেশের শুরুটা মোটেও ভালো ছিল না। দুই ওপেনার মাহমুদুল হাসান জয় (৫) ও সাদমান ইসলাম (১০) দ্রুতই সাজঘরে ফেরেন। ২৩ রানে ২ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা দলকে টেনে তোলেন শান্ত ও মুমিনুল। লাঞ্চের সময় ২ উইকেটে ৯৩ রান তুলে বাংলাদেশ যখন বড় সংগ্রহের স্বপ্ন দেখছিল, ঠিক তখনই নামে ঝমঝমে বৃষ্টি। মিরপুর স্টেডিয়ামের ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভালো হওয়ায় বৃষ্টির পর খেলা দ্রুত শুরু করা সম্ভব হয়েছিল।
শান্ত ও মুমিনুলের ১১৪ রানের জুটি ভাঙেন শাহীন শাহ আফ্রিদি। এরপর মুশফিকুর রহিমকে (১৬*) নিয়ে শান্ত যখন নতুন জুটি গড়ার পথে, তখনই অন্ধকার ঘনিয়ে আসায় খেলা বন্ধ করে দেন আম্পায়াররা।
ম্যাচের ভাগ্য এখন পঞ্চম ও শেষ দিনের হাতে। সোমবার নির্ধারিত সময়ের ১৫ মিনিট আগে খেলা শুরু হবে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৪১৩
পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ৩৮৬
বাংলাদেশ ২য় ইনিংস: ৫০.৩ ওভারে ১৫২/৩ (আগের দিন ৭/০) (জয় ৫, সাদমান ১০, মুমিনুল ৫৬, শান্ত ৫৮*, মুশফিক ১৬*; আফ্রিদি ১২-২-৩৯-১, আব্বাস ১৪-৩-৩৫-১, হাসান ১১.৩-২-২৩-১, সালমান ৫-০-১৮-০, হাসান ৮-০-৩২-০)।