উঠতি তরুণ থেকে ক্রমেই বিশ্ব ক্রিকেটের এক বড় তারকা হয়ে উঠছেন নাহিদ রানা। গতি আর বাউন্সারের মারণাস্ত্রে প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের রীতিমতো নাভিশ্বাস তুলে ছাড়ছেন তিনি। তাঁর এই আগুনে পারফরম্যান্স আলাদা করে কেড়েছে বিশ্ব ক্রিকেটের নজর। এবার বাংলাদেশের এই নতুন পেস সেনসেশনকে প্রশংসার জোয়ারে ভাসালেন দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি পেসার অ্যালান ডোনাল্ড। সেই সাথে নাহিদের বোলিংয়ের যে সহজাত সামর্থ্য বা গতি, সেটা নিয়ে বেশি নাড়াচাড়া বা জোর করে পরিবর্তন না করার পরামর্শ দিয়েছেন এই কিংবদন্তি।
২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখার পর থেকেই গতি দিয়ে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন নাহিদ। সবশেষ সিরিজেও যেমন তাঁর আগুনে বোলিংয়ে পুড়ে ছাই হয়েছে পাকিস্তান। বিশেষ করে মিরপুর টেস্টের শেষ দিনে তো একাই অবিশ্বাস্য এক স্পেল উপহার দেন তিনি। ওই ম্যাচে রান তাড়া করতে নেমে একপর্যায়ে বেশ ভালো অবস্থানে ছিল পাকিস্তান। কিন্তু একের পর এক আগুনের গোলা ছুঁড়ে এক স্পেলেই প্রতিপক্ষের সব আশা গুঁড়িয়ে দেন নাহিদ। বাংলাদেশের ১০৪ রানের অবিস্মরণীয় জয়ে রাখেন সবচেয়ে বড় ভূমিকা। টেস্টের চতুর্থ ইনিংসে মাত্র ৪০ রান খরচায় তুলে নেন ৫টি উইকেট। পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করা দুই ম্যাচের সিরিজে মোট ১১টি উইকেট শিকার করেন এই তরুণ।
২০২২ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ হিসেবে কাজ করেছিলেন অ্যালান ডোনাল্ড। সেই সুবাদে নাহিদকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছিল তাঁর। চট্টগ্রামে একটি হাই-পারফরম্যান্স ক্যাম্পে এই পেসারকে প্রথম দেখেই মুগ্ধ হয়েছিলেন তিনি। এমনকি তখনকার বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গোকে নাকি নাহিদকে দ্রুত জাতীয় দলে সুযোগ দেওয়ার পরামর্শও দিয়েছিলেন ডোনাল্ড।
সম্প্রতি উইজডেনের ‘দ্য স্কুপ’ পডকাস্টে কথা বলার সময় নাহিদকে প্রথম দেখার সেই স্মৃতি রোমন্থন করেন ডোনাল্ড:
“এই ছেলেকে সামলানো যেকোনো ব্যাটসম্যানের জন্যই কঠিন। সে দারুণ গতিময়, লম্বা ও ছিপছিপে গড়নের—এক কথায় বলতে গেলে অসাধারণ একজন অ্যাথলেট। পুরো বাংলাদেশ থেকে একঝাঁক তরুণ পেসারকে নিয়ে চট্টগ্রামে আড়াই দিনের একটা ক্যাম্প করা হয়েছিল, সেখানেই তাঁর সঙ্গে আমার প্রথম দেখা। ওকে দেখেই আমি এতটাই রোমাঞ্চিত হয়েছিলাম যে, রাসেল ডমিঙ্গোকে বলেছিলাম—চলো, ছেলেটাকে দ্রুত কোথাও সুযোগ দেওয়া যাক। ও তখন একেবারেই অপরিচিত, অনভিজ্ঞ কিন্তু মারাত্মক গতিময়। আর এখন ও ক্রিকেটের সব ফরম্যাটেই দারুণ করছে। এটা দেখা সত্যিই আনন্দের।”
নাহিদের বোলিং স্টাইলের মধ্যে ইংল্যান্ডের সাবেক গতিময় বোলার স্টিভ হার্মিসনের ছায়া দেখতে পান ডোনাল্ড। তাই নাহিদের থেকে সেরাটা পেতে তাঁর স্বাভাবিক বোলিংয়ে কোনো ধরনের বদল না আনার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি:
“সে দেখতে কিছুটা নিজের সেরা ছন্দে থাকা স্টিভ হার্মিসনের মতো। হার্মিসন অনেক দীর্ঘদেহী ছিল, ওর রান-আপ খুব নিখুঁত না হলেও ছন্দের দিক থেকে ও ছিল দুর্দান্ত এবং মারাত্মক গতিময়। নাহিদ রানাও ঠিক তেমনই। আমার মনে হয় নাহিদের ব্যাপারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ওকে লাইন-লেংথ মেপে বল করার জন্য জোর না করা। ঢাকা টেস্টের প্রথম ইনিংসে ও ১০৪ রান দিয়ে মাত্র ১ উইকেট পেয়েছিল, কিন্তু দ্বিতীয় ইনিংসেই ও ৫ উইকেট শিকার করে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেয়। আর এই কারণেই তাঁর সহজাত গতিতে কখনো হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়। ও হয়তো কিছু ম্যাচে একটু বেশি রান খরচ করবে, কিন্তু যেকোনো দিন একাই ৫-৬ উইকেট তুলে নেওয়ার সামর্থ্য রাখে—এটাই ওর আসল বিশেষত্ব। তাই নাহিদ রানার উচিত স্রেফ মাঠে নেমে নিজের গতিতে বল করে যাওয়া।”