দলের কোনো খেলোয়াড়ই যেহেতু সরাসরি কঙ্গো থেকে স্কোয়াডে আসেননি, তাই নিজেদের পূর্বনির্ধারিত অনুশীলন বা প্রস্তুতি পরিকল্পনায় কোনো ধরনের বদল আনার কারণ দেখছে না ডিআর কঙ্গো ফুটবল ফেডারেশন।
আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপ খেলতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার জন্য ওয়াশিংটনের দেওয়া কঠোর শর্ত মানতে নারাজ ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআর কঙ্গো)। দলের একজন মুখপাত্র স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, কড়া বিধিনিষেধের তোয়াক্কা না করে তারা নিজেদের আগের পরিকল্পনা অনুযায়ীই প্রস্তুতি চালিয়ে যাবেন।
মূলত ডিআর কঙ্গোয় নতুন করে প্রাণঘাতী ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এই উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কঙ্গোর প্রতিনিধি দল যদি যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ করতে চায়, তবে তাদের কঠোর একটি জৈব-সুরক্ষা বলয়ের (বায়ো-বাবল) মধ্যে থাকতে হবে এবং টানা ২১ দিন আইসোলেশনে কাটানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই নিয়ম না মানলে দেশটিতে প্রবেশের অনুমতি নাও মিলতে পারে।
এবারের বিশ্বকাপে ‘কে’ গ্রুপে খেলছে আফ্রিকার এই দলটি। আগামী ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান। এরপর ২৩ জুন মেক্সিকোর গুয়াদালাহারায় কলম্বিয়ার মুখোমুখি হবে তারা। আর ২৭ জুন গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় উজবেকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামবে কঙ্গো।
বিশ্বকাপের জন্য হোয়াইট হাউসের বিশেষ টাস্ক ফোর্সের প্রধান অ্যান্ড্রু জুলিয়ানো ইএসপিএন-কে জানিয়েছেন, আগামী ১১ জুন হিউস্টনে পা রাখতে হলে কঙ্গো দলকে অবশ্যই ২১ দিন বাবল বা আইসোলেশনের নিয়ম মেনে চলতে হবে।
বর্তমানে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিতে বেলজিয়ামে অবস্থান করছে কঙ্গো দল। সেখানে আগামী ৩ জুন ডেনমার্কের বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে তারা। এর ঠিক ছয় দিন পর স্পেনের কাদিসে স্বাগতিকদের বিপক্ষে আরেকটি প্রস্তুতি ম্যাচে মাঠে নামবে তারা। কঙ্গোর এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, কড়া মার্কিন বিধিনিষেধের মাঝেও তারা তাদের সূচি মেনেই এগোবেন:
“আমরা আমাদের অনুশীলন পরিকল্পনা একদম স্বাভাবিকভাবেই চালিয়ে যাব। দলের কোনো খেলোয়াড়ই ডিআর কঙ্গোর অভ্যন্তরীণ কন্ডিশন থেকে সরাসরি ক্যাম্পে আসেননি।”
বাস্তবিক অর্থে, কঙ্গো স্কোয়াডের সব খেলোয়াড়ই দেশের বাইরের বিভিন্ন লিগে খেলেন, যাদের বেশিরভাগই ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোর ফুটবলার। এমনকি দলের প্রধান কোচ সেবাস্টিয়ান দাসাবরাহ নিজেও ইউরোপে থাকেন। তবে চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে ডিআর কঙ্গো থেকে ফুটবল বোর্ডের কয়েকজন কর্মকর্তা দলের এই অনুশীলন ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন।
বিশ্বকাপের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার আগে আগামী সপ্তাহে দেশবাসীকে বিদায় জানাতে তিন দিনের সফরে কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসা যাওয়ার কথা ছিল পুরো দলের। তবে ইবোলার এই জটিল পরিস্থিতির কারণে সেই সফরটি শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয়েছে।
ডিআর কঙ্গোয় এবারের ইবোলা প্রাদুর্ভাবে এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৫০ জনে, আর এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ইতিমধ্যেই ১৭৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।