BN

সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করতে না পারার আক্ষেপে পদত্যাগ কন্তের

সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করতে না পারার আক্ষেপে পদত্যাগ কন্তের

ইতালির জাতীয় দলের ডাগআউটে ফেরার জোর গুঞ্জনের মাঝেই এবার নাপোলির কোচের পদ

ইতালির জাতীয় দলের ডাগআউটে ফেরার জোর গুঞ্জনের মাঝেই এবার নাপোলির কোচের পদ ছাড়লেন আন্তোনিও কন্তে, যা ফুটবল পাড়ার সেই আলোচনায় যোগ করেছে নতুন এক মাত্রা।

সিদ্ধান্তটা অবশ্য মাসখানেক আগেই ক্লাবের সভাপতিকে জানিয়ে রেখেছিলেন আন্তোনিও কন্তে। আর মরসুমের শেষ ম্যাচটি খেলার পর দায়িত্ব ছাড়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণাও দিয়ে দিলেন তিনি। ফলে আগামী মরসুমে নাপোলির ডাগআউটে আর দেখা যাবে না এই অভিজ্ঞ ইতালিয়ান মাস্টারমাইন্ডকে।

নাপোলির হয়ে কন্তের বিদায়ী ম্যাচটি অবশ্য জয়েই রাঙিয়েছে তাঁর শীর্ষেন্দুরা। রোববার উদিনেসেকে ১-০ গোলে হারিয়েছে তারা। এই জয়ের ফলে ৩৮ ম্যাচে ৭৬ পয়েন্ট নিয়ে লিগ টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে থেকে রানার্সআপ হিসেবে মরসুম শেষ করল ক্লাবটি।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে নাপোলির দায়িত্ব নিয়েই প্রথম মরসুমেই দলটিকে সেরি আ-র শিরোপা জিতিয়েছিলেন কন্তে। তবে এবার আর লিগ শিরোপা ধরে রাখতে পারেনি তাঁর দল। অবশ্য একেবারে শূন্য হাতে মরসুম শেষ করতে হয়নি তাদের, ঘরে তুলেছে ইতালিয়ান সুপার কাপের ট্রফি।

সব মিলিয়ে দুই মরসুমের নাপোলি অধ্যায় কন্তের বেশ ভালোই কেটেছে বলা যায়। তবে ক্লাবের ভেতরের সবাইকে ‘ঐক্যবদ্ধ করতে না পারার’ আক্ষেপে চুক্তির মেয়াদের আরও এক বছর বাকি থাকতেই স্বেচ্ছায় দায়িত্ব ছেড়ে দিলেন তিনি। বিদায়ী সংবাদ সম্মেলনে এসে ৫৬ বছর বয়সী এই কোচ নিজেই প্রকাশ করলেন সেই না-বলা কথা:

“প্রায় এক মাস আগেই আমি সভাপতিকে ফোন করে বলেছিলাম, আমার মনে হচ্ছে আমাদের একসাথে পথচলা এখানেই শেষ হওয়া উচিত। এই কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার মূল কারণ হলো, নাপোলির একটা জায়গায় আমি নিজেকে ব্যর্থ মনে করি—আমি ক্লাবের সবাইকে এক সুতোয় বাঁধতে পারিনি। আর এই একতা ছাড়া বাইরের অন্য বড় দলগুলোর সাথে লড়াই করা অসম্ভব।”

“আমি ব্যর্থ হয়েছি কারণ সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারিনি, আর এই ব্যর্থতার পুরো দায় একান্তই আমার। আমি বুঝতে পেরেছি যে, এখানকার পরিস্থিতি এখন আর পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। তবে নাপোলির মতো ক্লাবের দায়িত্ব পালন করা আমার জন্য অনেক বড় সম্মানের ছিল। আমি সভাপতি এবং ক্লাবের ভক্তদের ধন্যবাদ জানাই, যাঁরা আমার পরিস্থিতি অনুধাবন করতে পেরেছেন।”

আন্তোনিও কন্তের কোচিং ক্যারিয়ার অনবদ্য ও বেশ সমৃদ্ধ। তাঁর অধীনে অতীতে ইউভেন্তুস ও ইন্টার মিলানের মতো জায়ান্টরাও সেরি আ জয়ের স্বাদ পেয়েছে। এ ছাড়া ইংলিশ ক্লাব চেলসির হয়ে জিতেছেন প্রিমিয়ার লিগ এবং দায়িত্ব সামলেছেন টটেনহ্যাম হটস্পারেরও।

এর আগে ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত ইতালির প্রধান কোচের দায়িত্বে ছিলেন কন্তে। দায়িত্বে থাকার শেষ বছর (২০১৬ ইউরো) তুলনামূলক এক অনভিজ্ঞ ইতালি দলকে কোয়ার্টার ফাইনালে তুলে চমক দেখিয়েছিলেন তিনি। শেষ আটের সেই মারদাঙ্গা লড়াইয়ে জার্মানির কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল তাঁর দলকে।

বর্তমানে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের মূল পর্বে জায়গা করতে না পেরে গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে ইতালির ফুটবল। গত মাসে দলটির প্রধান কোচ জেন্নারো গাত্তুসো পদত্যাগ করার পর থেকেই কড়া সংকটে রয়েছে আজ্জুরিরা। এই কঠিন সময়ে জাতীয় দলের হাল ধরতে কন্তেকেই আবারও ফিরিয়ে আনা হতে পারে বলে জোর গুঞ্জন চলছে। তবে আপাতত সেই সম্ভাবনা হেসেই উড়িয়ে দিয়েছেন কন্তে:

“এগুলো স্রেফ গুঞ্জন ছাড়া আর কিছুই নয়। জাতীয় দল নিয়ে অতীতে আমি শুধু এটুকুই বলেছিলাম যে—যদি আমি ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি হতাম, তবে কোচের তালিকায় কন্তের নামও রাখতাম। তবে এই মুহূর্তে আমার ভবিষ্যৎ নিয়ে আমি নিজেও কিছু জানি না। হতে পারে ফুটবলের ধকল থেকে কিছুদিন দূরে থাকব, নিজের মতো করে বিশ্রাম নেব।”

সর্বশেষ সংবাদ

মোহামেদ সালাহ লিভারপুল ‘ছেড়ে চলে যাওয়ায়’ ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের

বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার মাত্র কয়েকদিনের

ইতালির জাতীয় দলের ডাগআউটে ফেরার জোর গুঞ্জনের মাঝেই এবার

ফুটবল

মোহামেদ সালাহ লিভারপুল ‘ছেড়ে চলে যাওয়ায়’ ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের গোল্ডেন

ফুটবল

বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের দায়িত্ব বুঝে নেওয়ার মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই

ফুটবল

নিজেদের শেষ ম্যাচে বড় ব্যবধানে জিতেও ভাগ্যের নিষ্ঠুর পরিহাসে দ্বিতীয়

ফুটবল

দুই অর্ধে দুই একদম বিপরীত চেহারায় দেখা গেল ম্যানচেস্টার সিটিকে।