BN

৮ বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি অ্যালিসা হিলির বিদায় ঘোষণা

৮ বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি অ্যালিসা হিলির বিদায় ঘোষণা

অজস্র সাফল্য আর রেকর্ডের ঝুলি নিয়ে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা

অজস্র সাফল্য আর রেকর্ডের ঝুলি নিয়ে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ান তারকা অ্যালিসা হিলি।

ট্রিপল এম ক্রিকেটের ‘উইলো টক’ পডকাস্টে নিয়মিতই হাজির থাকেন হিলি। সেখানে ক্রিকেট নিয়ে নানা আলোচনার মাঝেই এবার শুরুটা ছিল একটু ভিন্ন। তাকে বলা হয়, “অ্যালিসা, তুমি কিছু জানাতে চাও আমাদের…।” জবাবে হিলি বলেন, “এভাবে শুরু করব ভাবিনি, ভেবেছিলাম শেষে বলব…।” ঠোঁটে হালকা হাসি নিয়ে অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক যোগ করেন, “আনুষ্ঠানিকভাবে আমি ক্রিকেট থেকে অবসর নিচ্ছি ভারতের বিপক্ষে সিরিজ শেষে।”

এরপরই হাসতে হাসতে তিনি বলেন, “দয়া করে আমাকে কাঁদাবেন না…।”

আগামী ফেব্রুয়ারি-মার্চে ঘরের মাঠে ভারতের বিপক্ষে সিরিজ দিয়েই খেলোয়াড়ি জীবনের ইতি টানছেন হিলি। এই ঘোষণা অনেকটাই চমক জাগানো। আড়াই মাস আগে ওয়ানডে বিশ্বকাপ শেষ হয়েছে সেমিফাইনালে হেরে। চার বছর পরের বিশ্বকাপে তার খেলার সম্ভাবনা এমনিতেই কম ছিল। তবে পাঁচ মাস পরই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থাকায় ধারণা করা হচ্ছিল, সেখানেই হয়তো বিদায় বলবেন তিনি। কিন্তু ৩৫ বছর বয়সী এই তারকা তার আগেই থামার সিদ্ধান্ত নিলেন।

ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে খেলবেন হিলি। এরপর পার্থে অনুষ্ঠিত দিন-রাতের টেস্ট ম্যাচটিই হবে তার ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ। তবে টি-টোয়েন্টি সিরিজে তাকে দেখা যাবে না, যাতে সামনে বিশ্বকাপের আগে দল গুছিয়ে নেওয়ার সুযোগ পান অন্য কেউ।

অবসরের কারণ জানাতে গিয়ে শুরুতে মজা করেই কথা বলেন হিলি। জীবনসঙ্গী আরেক অস্ট্রেলিয়ান তারকা মিচেল স্টার্কের কাছে গলফে হেরে গেছেন—সেই খেলায় উন্নতি করতে চান, তাই ক্রিকেটকে একটু পাশে রাখতে চান—এমন কথায় হাসির খোরাক জোগান। পরে অবশ্য গম্ভীর হয়ে বলেন, দীর্ঘদিনের চোট আর মানসিক ক্লান্তিই তাকে এই সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দিয়েছে।

“অনেক দিন ধরেই এটা নিয়ে ভাবছিলাম। গত কয়েক বছর মানসিকভাবে যেকোনো কিছুর চেয়ে বেশি নিঃশেষ করে দিয়েছে। একের পর এক চোটে ভুগেছি, আর সবটুকু উজাড় করে দেওয়া দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছিল।”

তিনি আরও বলেন,
“আমি সবসময় মাঠে নামতে চেয়েছি প্রতিদ্বন্দ্বিতার মানসিকতা নিয়ে। জিততে চেয়েছি, নিজেকে চ্যালেঞ্জ করতে চেয়েছি। এখন বয়সও কিছুটা বেশি মনে হচ্ছে। সব তাড়না হারিয়ে ফেলিনি ঠিকই, তবে কিছুটা যে কমেছে, সেটা বুঝতে পারছি।”

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে হিলি খেলেছেন ১০টি টেস্ট, ১২৩টি ওয়ানডে ও ১৬২টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। তার ক্যারিয়ারে এসেছে ছয়টি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও দুটি ওয়ানডে বিশ্বকাপের শিরোপা। উইকেটের সামনে ও পেছনে গড়েছেন অসংখ্য রেকর্ড। দুইবার হয়েছেন আইসিসির বর্ষসেরা টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটার, জিতেছেন অস্ট্রেলিয়ার বর্ষসেরা নারী ক্রিকেটারের পুরস্কারও।

শুধু পরিসংখ্যান নয়, খেলার ধরন আর মানসিকতা দিয়েও তিনি রেখে গেছেন গভীর ছাপ। তার আগ্রাসী ব্যাটিং নারী ক্রিকেটকে নিয়ে গেছে নতুন উচ্চতায়। মেয়েদের ক্রিকেটে তিনি সত্যিকারের একজন কিংবদন্তি।

হিলি জানান, আগামী জুন-জুলাইয়ে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলে অবসর নেওয়ার ভাবনাও মাথায় এসেছিল। তবে শেষ পর্যন্ত ঘরের মাঠে, পরিবার ও সমর্থকদের সামনে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে বিদায় নেওয়াকেই সবচেয়ে সম্মানজনক মনে করেছেন তিনি।

উল্লেখ্য, হিলির জীবনসঙ্গী মিচেল স্টার্ক নিজেও অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম সেরা পেসার। আর তার চাচা ইয়ান হিলি ক্রিকেট ইতিহাসের সর্বকালের সেরা উইকেটকিপারদের একজন হিসেবে বিবেচিত।

সর্বশেষ সংবাদ

পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংসে দলকে রেকর্ডপুঁজি গড়ার ভিত্তি গড়লেন যুক্তরাষ্ট্রের

চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিপক্ষে শুরুতেই ধাক্কা খেলেও ভেঙে পড়েনি ভারত।

ইশান কিষানের আগুনঝরা ব্যাটিং আর পেস-স্পিনের দুর্দান্ত যৌথ আক্রমণে

ক্রিকেট

পঞ্চাশ ছোঁয়া ইনিংসে দলকে রেকর্ডপুঁজি গড়ার ভিত্তি গড়লেন যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিকেটার

ক্রিকেট

চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের বিপক্ষে শুরুতেই ধাক্কা খেলেও ভেঙে পড়েনি ভারত। সেই

ক্রিকেট

ইশান কিষানের আগুনঝরা ব্যাটিং আর পেস-স্পিনের দুর্দান্ত যৌথ আক্রমণে আরেকবার

ক্রিকেট

নেপালকে হারানোর পথে বল হাতে আলো ছড়িয়ে অনন্য দুটি কীর্তি