মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে তখন চলছে বিসিএল ফাইনালের লড়াই। দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙে হুট করেই সেখানে হাজির এনামুল হক বিজয়। কোনো লুকোছাপা নয়, নিজেই চাইলেন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হতে। গত তিন মাস ধরে ক্রিকেটের বাইরে থাকা এই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানের কণ্ঠে ঝরল একরাশ অভিমান আর ক্ষোভ। বিসিবির কাছ থেকে হারানো সম্মান ফিরে না পেলে আর কোনোদিন প্যাড পরবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিলেন তিনি।
কেন এই দীর্ঘ বিরতি?
বিপিএলের গত আসরে ফিক্সিং ও দুর্নীতির অভিযোগে যে ৯ ক্রিকেটারের নাম তদন্তের তালিকায় এসেছিল, বিজয় তাদেরই একজন। এই ‘ঝুলন্ত’ তদন্তের অযুহাতে তাকে বিপিএল তো বটেই, এমনকি ‘অদম্য বাংলাদেশ’ টি-টোয়েন্টি কাপেও খেলতে দেওয়া হয়নি। অথচ বিসিএলে খেলার অনুমতি পাওয়ায় বিসিবির দ্বিমুখী আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
“একটা টুর্নামেন্টে খেলতে দেওয়া হবে, আরেকটায় না—একজন পেশাদার ক্রিকেটারের সঙ্গে এমনটা চলতে পারে না। আমি তো আর উড়ে এসে জুড়ে বসিনি। ১০-১২ বছর জাতীয় দলে খেলেছি, প্রথম শ্রেণিতে ৫১টি সেঞ্চুরি আছে আমার। অনূর্ধ্ব-১৯ ও ‘এ’ দলের অধিনায়কত্ব করেছি।”
বিসিবির কাছে বিজয়ের দুই দাবি
বিজয় স্পষ্ট করে দুটি সমস্যার সমাধান চেয়েছেন:
- তদন্তের দ্রুত নিষ্পত্তি: বিজয় প্রশ্ন তুলেছেন, দুই বছর ধরে চলা তদন্তের কোনো কূল-কিনারা কেন হচ্ছে না? তার ভাষায়, “আমি কি নাসা-তে জব করি যে এমন কিছু করেছি যা কেউ বুঝতে পারবে না? কেউ কিছু করলে তা বের করতে এক-দুই সপ্তাহই যথেষ্ট।”
- বকেয়া পারিশ্রমিক: গত বছরের বিপিএলের পারিশ্রমিক এখনো বুঝে পাননি তিনি। আইনজীবীর মাধ্যমে যোগাযোগ করেও মেলেনি কোনো সুরাহা।
টাকা নয়, চাই সম্মান
মাঠে ফেরার জন্য বিজয় এখন আর উদগ্রীব নন, বরং তিনি চান নিজের নামের ওপর থেকে কলঙ্কের দাগ মুছতে। বিসিবিকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন:
“সম্মানের জন্য ছোটবেলা থেকে ক্রিকেট খেলে আসছি, টাকার জন্য না। গত এক বছর ধরে আপনারা আমাকে যে অসম্মান করেছেন, তা একজন মানুষের জন্য যথেষ্ট। বিসিবি যেদিন সুন্দর করে বলবে বিজয় অপরাধী না এবং আমার পেমেন্ট ক্লিয়ার করবে, সেদিনই আমি আবার ক্রিকেট খেলব। তার আগে নয়।”
আইনি লড়াইয়ে যাওয়ার ইচ্ছা না থাকলেও, এই সংকট নিরসনে নতুন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সঙ্গে দেখা করতে চান ৩৩ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার। ক্যারিয়ারের এই পর্যায়ে এসে সম্মানের প্রশ্নে কোনো আপস করতে রাজি নন এনামুল হক বিজয়।