আইপিএল ২০২৬-এর মঞ্চে দিল্লি ক্যাপিটালস (ডিসি) এবং গুজরাট টাইটান্স (জিটি) তাদের অভিযানের শুরুর দিকেই এক বড় সত্যের মুখোমুখি হয়েছে। পয়েন্ট টেবিলের ভাগ্য নির্ধারণে মিডল অর্ডার কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা দুই দলই হারে হারে টের পাচ্ছে। দিল্লির মিডল অর্ডার যেখানে দলকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তুলছে, গুজরাটের ক্ষেত্রে ঠিক উল্টোটাই কাল হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টসের বিপক্ষে ১৪২ রান তাড়া করতে নেমে মাত্র ২৬ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল দিল্লি। সেখান থেকে ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার হিসেবে নেমে সমীর রিজভী ৪৭ বলে অপরাজিত ৭০ রানের এক অবিশ্বাস্য ইনিংস খেলেন। সাথে ট্রিস্টান স্টাবসের ৩২ বলে অপরাজিত ৩৯ রান দিল্লিকে অভাবনীয় এক জয় এনে দেয়। পরের ম্যাচে মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের বিপক্ষেও রিজভী ৫১ বলে ৯০ রানের টর্নেডো ইনিংস খেলে ১৬৩ রান তাড়া করে দলকে জেতান।
অন্যদিকে, গুজরাট টাইটান্স তাদের প্রথম দুই ম্যাচে দারুণ শুরু করেও খেই হারিয়েছে কেবল মিডল অর্ডারের ব্যর্থতায়। পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে ১০ ওভারে ১ উইকেটে ৮৩ রান করার পরও গ্লেন ফিলিপস, ওয়াশিংটন সুন্দর কিংবা রাহুল তেওয়াতিয়াদের কেউই দ্রুত রান তুলতে পারেননি। ফলে মাঝারি মানের পুঁজি নিয়ে হারতে হয় তাদের। রাজস্থান রয়্যালসের বিপক্ষে ২১১ রান তাড়া করতে নেমেও ১১ ওভারে ১০৭ রানে ১ উইকেট ছিল গুজরাটের। কিন্তু এরপর মিডল অর্ডারের কেউ ২৫ রানের গণ্ডিও পেরোতে পারেননি। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫ সাল থেকে গুজরাটের ৪ থেকে ৭ নম্বর ব্যাটসম্যানদের গড় মাত্র ২০.১, যা টুর্নামেন্টের সব দলের মধ্যে সর্বনিম্ন।
দিল্লি এখন পর্যন্ত অপরাজেয় থাকলেও নীতীশ রানা বা বিপ্রজ নিগমের মতো খেলোয়াড়দের কাছ থেকে আরও ভালো পারফরম্যান্স আশা করবে। অন্যদিকে গুজরাট শিবিরে বড় স্বস্তি হয়ে ফিরছেন অধিনায়ক শুভমান গিল। ঘাড়ের ব্যথার কারণে আগের ম্যাচ মিস করলেও সাই সুদর্শন নিশ্চিত করেছেন যে গিল এখন পুরোপুরি ফিট। এছাড়া মিডল অর্ডার শক্তিশালী করতে তারা জেসন হোল্ডারকে একাদশে নেওয়ার কথা ভাবতে পারে।
দিল্লিতে এই অসময়ের বৃষ্টি ম্যাচের ভাগ্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। গুজরাট কি পারবে দিল্লির জয়রথ থামিয়ে তাদের প্রথম পয়েন্ট অর্জন করতে, নাকি সমীর রিজভীদের দাপট অব্যাহত থাকবে—সেটাই এখন দেখার বিষয়।