নিউজিল্যান্ড দল মানেই এক নিখাদ পেশাদারিত্বের নাম। প্রথম ম্যাচে জয় পাওয়ার পর কিউইদের আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে, আর তাদের পুরো নজর এখন সিরিজ জয়ের দিকে। পেসার ন্যাথান স্মিথ মনে করছেন, এই প্রতিকূল কন্ডিশনে বাংলাদেশকে সিরিজ হারাতে পারাটা হবে তাদের জন্য এক বিশাল অর্জন।
এমনিতে নিউজিল্যান্ডের সিরিজ জয় খুব অবাক করার মতো কোনো ঘটনা নয়। তারা আইসিসি ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ের ২ নম্বর দল, এমনকি গত সিরিজেই ভারতের মাটিতে সিরিজ জিতে এসেছে। বাংলাদেশেও সিরিজ জেতার অভিজ্ঞতা তাদের আছে।
তবে এবারের প্রেক্ষাপট একদম ভিন্ন। মূল দলের প্রায় ১৬-১৭ জন নিয়মিত ক্রিকেটারকে ছাড়াই এই সফরে এসেছে তারা। তার ওপর এপ্রিলের এই প্রচণ্ড দাবদাহ তাদের জন্য এক বড় পরীক্ষা। এর আগে নিউজিল্যান্ড বাংলাদেশে যতবার সিরিজ জিতেছে, প্রতিবারই আবহাওয়া ছিল বেশ আরামদায়ক (সেপ্টেম্বর, অক্টোবর বা নভেম্বর মাসে)। এবার লড়াইটা তাই শুধু প্রতিপক্ষের সঙ্গেই নয়, কন্ডিশনের বিরুদ্ধেও।
দ্বিতীয় ওয়ানডের আগে স্মিথ জানালেন, এই অনভিজ্ঞ দল নিয়ে সিরিজ জয় কেন তাদের কাছে এত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “এটি হবে বিশাল এক ব্যাপার। বাংলাদেশ এবার বেশ শক্তিশালী দল নামিয়েছে। নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের অন্যতম শক্তি হলো যেকোনো পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া। মূল দলের বাইরে যারা আছে, তাদের এই ভিন্ন কন্ডিশনে এনে সাফল্যের স্বাদ পাইয়ে দেওয়াটা দলের গভীরতা বাড়াতে সাহায্য করবে। এটি আমাদের ভবিষ্যৎ পথচলার জন্য অনেক বড় আত্মবিশ্বাস জোগাবে।”
স্মিথ আরও যোগ করেন, “আমাদের জন্য এই কন্ডিশন একেবারেই অপরিচিত। এমন উইকেটে কীভাবে কার্যকর হওয়া যায়, সেই উপায় খুঁজে বের করাটাই আমাদের লক্ষ্য। গত ম্যাচে যেভাবে আমরা বাংলাদেশকে চাপে ফেলতে পেরেছিলাম, তা সত্যিই তৃপ্তিদায়ক। তাই সিরিজ জিততে পারলে তা আমাদের জন্য হবে বিরাট এক প্রাপ্তি।”
প্রথম ম্যাচের জয়ের কারিগর ছিলেন এই স্মিথ নিজেই। ব্যাট হাতে ২১ রানের কার্যকর ইনিংস খেলার পর বল হাতে শুরুতেই তানজিদ হাসান ও নাজমুল হোসেন শান্তকে ফিরিয়ে দিয়ে বাংলাদেশকে খাদের কিনারে ঠেলে দিয়েছিলেন তিনি। শেষে থিতু হওয়া তাওহিদ হৃদয়কে আউট করে বাংলাদেশের সব আশা শেষ করে দেন এই পেসার।
আগামী সোমবার মিরপুরে সিরিজ জয়ের লক্ষ্যেই মাঠে নামবে কিউইরা।