আগের সিরিজে পাকিস্তানের বিপক্ষে স্পোর্টিং উইকেটে খেলে দাপুটে জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেই সেই চেনা পথে না হেঁটে উল্টো মন্থর উইকেট তৈরির নির্দেশনা দিয়েছিল বাংলাদেশের টিম ম্যানেজমেন্ট। দ্বিতীয় ম্যাচের উইকেটেও দেখা যাচ্ছে সেই একই ছবি—সবুজাভ ঘাসের ছোঁয়া থাকলেও আদতে তা কতটা গতিময় হবে, তা নিয়ে সংশয় কাটছে না।
সিরিজ শুরুর আগে কোচ ফিল সিমন্স ও অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ স্পোর্টিং উইকেটের কথা বললেও, পর্দার পেছনের গল্প ছিল ভিন্ন। টিম ম্যানেজমেন্ট সূত্রে জানা গেছে, কিউরেটরকে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল এমন উইকেট তৈরি করতে যেখানে বল ব্যাটে আসবে ধীরে। মূল লক্ষ্য ছিল—ব্যাটসম্যানরা টিকে থাকলে রান পাবে, কিন্তু হুটহাট বড় শট খেলা যাবে না। তবে বিধিবাম! মন্থর উইকেট চাইলেও টার্ন এড়াতে চেয়েছিল ম্যানেজমেন্ট, কিন্তু রোদের তীব্রতায় উইকেট দ্রুত শুকিয়ে ভেঙে যাওয়ায় বল ঘুরতে শুরু করে অনেক আগে থেকেই।
কিউই অলরাউন্ডার ন্যাথান স্মিথ প্রথম ম্যাচের উইকেট নিয়ে নিজের অভিজ্ঞতায় বলেন, “সূর্যের তাপে উইকেট যেন ঝলসে যাচ্ছিল। অতিরিক্ত গরম আর ডাউন দা উইকেটে খেলার ফলে তৈরি হওয়া ক্ষতগুলো ফাটলকে আরও বড় করে দিয়েছিল। ফলে ব্যাটিং করাটা সময়ের সাথে সাথে বেশ কঠিন হয়ে পড়েছিল।”
সংবাদ সম্মেলনে শরিফুল ইসলাম উইকেটের পরিকল্পনা নিয়ে সরাসরি কিছু না বললেও স্বীকার করে নিয়েছেন যে, উইকেট বুঝতে তাদের ভুল হয়েছিল। তিনি বলেন, “মিরপুরে আমরা অনেক সময় ভুল প্রমাণিত হই। টিম ম্যানেজমেন্ট গত ম্যাচের উইকেটে সন্তুষ্ট ছিল, আশা করি পরের ম্যাচে আরও ভালো কিছু হবে।”
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—নিউজিল্যান্ডের এই তরুণ দলটির বিপক্ষেও কেন গতানুগতিক সেই মন্থর উইকেটের নীতিতে ফিরল বাংলাদেশ? পাকিস্তানের বিপক্ষে সাহসিকতা দেখিয়ে সফল হওয়ার পরও কিউইদের বিপক্ষে এই রক্ষণাত্মক কৌশল অবাক করেছে অনেককেই।
আগামীকাল সোমবারের দ্বিতীয় ম্যাচেও টস একটি বড় ফ্যাক্টর হতে পারে বলে মনে করছেন স্মিথ। তাঁর মতে, উইকেট যেমনই হোক, শুরুতে ব্যাট করে বড় পুঁজি গড়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বেলা ১১টায় শুরু হবে সিরিজের এই গুরুত্বপূর্ণ লড়াই।