BN

এশিয়ান কাপের শিক্ষা সাফে কাজে লাগাতে চান বাটলার

এশিয়ান কাপের শিক্ষা সাফে কাজে লাগাতে চান বাটলার

নিজেদের মাঠে খেলা শক্তিশালী ভারতকে একটু বেশিই সমীহ করছেন বাংলাদেশ নারী ফুটবল

নিজেদের মাঠে খেলা শক্তিশালী ভারতকে একটু বেশিই সমীহ করছেন বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের ব্রিটিশ কোচ পিটার জেমস বাটলার।

মুকুট জয়ের চেয়ে তা ধরে রাখার কঠিন কাজটিই বাংলাদেশ ২০২৪ সালে করেছিল পিটার জেমস বাটলারের হাত ধরে। ২০২৬ সালের এই নতুন সাফে আবারও সেই কঠিন পরীক্ষা দিতে হবে জাতীয় নারী ফুটবল দলের এই হেড কোচকে। ছয়টি দল ও তাদের অধিনায়কদের নিয়ে আয়োজিত উইমেন’স সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে বাটলার স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, তিনি এবং তাঁর দল সব বাধা পেরিয়ে যেতে পুরোপুরি প্রস্তুত।

বাংলাদেশ কোচের এই আত্মবিশ্বাসের ভিত্তি তৈরি হয়েছে নানা কারণে। তাঁর অধীনেই বাংলাদেশের সিনিয়র ও অনূর্ধ্ব-২০ দল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এশিয়ান কাপের মূল পর্বে খেলার গৌরব অর্জন করেছে। সেখানে বড় কোনো চমক দেখাতে না পারলেও, এশিয়ার বড় মঞ্চে খেলার অভিজ্ঞতা মেয়েদের মানসিকভাবে বেশ সমৃদ্ধ করেছে।

ভারতের গোয়ায় সোমবার থেকে শুরু হতে যাওয়া এই সাফ টুর্নামেন্ট নিয়ে প্রস্তুতির কোনো কমতি রাখেনি বাংলাদেশ। চট্টগ্রামের কোরিয়ান ইপিজেডে কঠোর অনুশীলনের পর থাইল্যান্ডের ব্যাংককে দুই সপ্তাহের এক নিবিড় কন্ডিশনিং ক্যাম্প করেছে দল। সেখানে স্থানীয় শক্তিশালী ক্লাবের সাথে দুটি গোছানো প্রস্তুতি ম্যাচও খেলেছেন মারিয়া-ঋতুপর্ণারা।

বাটলারের স্পষ্ট মনে হচ্ছে, হারানো মুকুট ফিরে পেতে মরিয়া ভারতের মতোই সমানতালে প্রস্তুতি নিয়েছেন তাঁরা মুকুট ধরে রাখার মিশনে। তবে গ্রুপের দুই প্রতিপক্ষ ভারত ও মালদ্বীপ—কাউকেই হালকাভাবে নিচ্ছেন না তিনি:

“এশিয়ান গেমসের সিনিয়র এবং অবশ্যই অনূর্ধ্ব-২০ দল থেকে ফিরে আসার পর আমাদের প্রস্তুতি সম্ভবত ভারতের মতোই দারুণ ছিল। আমরা আবারও থাইল্যান্ডে যাই এবং সেখানে ১২ দিনের একটি নিবিড় প্রস্তুতি নিই। সেখানে আমরা কয়েকটি ম্যাচও খেলেছি। তো, হ্যাঁ, সবকিছু খুব ভালোভাবে সম্পন্ন হয়েছে এবং আপনারা ভালো করেই জানেন যে, আমরা এখানে শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়েই এসেছি।”

“আমার মনে হয়, প্রতিটি দিনকে আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে। প্রতিটি দলকে তাদের নিজস্ব যোগ্যতার ভিত্তিতেই মূল্যায়ন করা উচিত। অবশ্যই ভারত একটি শক্তিশালী দল, তাদের দারুণ সব খেলোয়াড় রয়েছে। তারা বেশ গোছানো ফুটবল খেলে এবং এবার নিজেদের মাঠে খেলার বাড়তি সুবিধাও পাবে। আশা করি রেফারিরাও মাঠে পুরোপুরি নিরপেক্ষ থাকবেন। তবে সবচেয়ে বড় কথা হলো, আমি ভারত এবং মালদ্বীপ—উভয় দলকেই সমান চোখে দেখছি। আমরা প্রতিটি দলকেই সম্মান করি এবং যার বিপক্ষেই খেলি না কেন, আমাদের এই মানসিকতা একই থাকবে। আমি শুধু মনে করি, আমাদের নিজেদের গেম প্ল্যান ঠিক রাখতে হবে, মাঠে সুসংগঠিত থাকতে হবে এবং যতটা সম্ভব পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার সাথে পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে।”

গত মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় হওয়া এশিয়ান কাপে অবশ্য তেমন কোনো চমক দেখাতে পারেনি বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচের সবকটিতেই হেরেছিল দল। তবে চীন, উত্তর কোরিয়া ও উজবেকিস্তানের মতো বিশ্বমানের শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ম্যাচগুলো থেকে মেয়েরা অনেক কিছু শিখেছে বলে বিশ্বাস বাটলারের:

“প্রথমত, আমি মোটেও মনে করি না যে সেটি (এশিয়ান কাপের হার) কোনো হতাশার বিষয় ছিল। আমার মতে, আমরা সেখানে বেশ প্রশংসনীয় ফুটবল খেলেছি। আমাদের দলে অনেক তরুণ খেলোয়াড় ছিল এবং বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আমরা অনূর্ধ্ব-২০ ও সিনিয়র—উভয় দলের জন্যই মূল পর্বের টিকিট কেটেছিলাম। তাই আমি এটিকে কোনোভাবেই ব্যর্থতা হিসেবে দেখি না; এটি আমাদের ফুটবল উন্নয়নের একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং এই দীর্ঘ যাত্রাপথে এটি আরেকটি মাইলফলক মাত্র।”

“ঐ বড় টুর্নামেন্টগুলো থেকে মেয়েরা যে শিক্ষা পেয়েছে, তা একেবারে বাস্তবসম্মত। উত্তর কোরিয়া এবং চীনের বিপক্ষে আমরা সত্যিই লড়াই করেছি। এমনকি অনূর্ধ্ব-২০ দলের মেয়েদের ক্ষেত্রেও এটি প্রযোজ্য। কারণ আমাদের স্কোয়াডে এমন অনেক অনূর্ধ্ব-২০ খেলোয়াড় রয়েছে, যারা জাতীয় দলের সিনিয়র গ্রুপেও নিয়মিত খেলছে এবং বেশ সক্রিয় ভূমিকা রাখছে।”

ভারতের পর দ্বিতীয় দল হিসেবে সাফের মঞ্চে এবার হ্যাটট্রিক শিরোপা জেতার এক সোনালী সুযোগ বাংলাদেশের সামনে। তবে এই হাতছানিকে বাড়তি কোনো চাপ হিসেবে না দেখে, বরং নতুন কিছু করে দেখানোর এক দুর্দান্ত সুযোগ বলেই মানছেন বাটলার:

“অতীতে যা ঘটেছে, তা এখন ইতিহাস ও অতীত। আমরা সামনে এগিয়ে যাচ্ছি এবং ভবিষ্যতের দিকেই চোখ রাখছি। আমাদের দলে কিছু নতুন ও প্রতিভাবান তরুণ খেলোয়াড় যুক্ত হয়েছে। আপনারা জানেন, এবার মারিয়াকে (মান্দা) অধিনায়ক করা হয়েছে এবং সে সামনে থেকে দলকে নেতৃত্ব দেবে। আমি ভেতর থেকে অনুভব করি যে, এটি খেলোয়াড়দের জন্য নিজেদের প্রমাণ করার এবং তার চেয়েও বড় কথা, নতুন করে ইতিহাস গড়ার একটি দারুণ সুযোগ।”

সর্বশেষ সংবাদ

নিজেদের শেষ ম্যাচে বড় ব্যবধানে জিতেও ভাগ্যের নিষ্ঠুর পরিহাসে

দুই অর্ধে দুই একদম বিপরীত চেহারায় দেখা গেল ম্যানচেস্টার

ম্যাচের ৭৪তম মিনিটে যখন মোহামেদ সালাহকে মাঠ থেকে তুলে

ফুটবল

নিজেদের শেষ ম্যাচে বড় ব্যবধানে জিতেও ভাগ্যের নিষ্ঠুর পরিহাসে দ্বিতীয়

ফুটবল

দুই অর্ধে দুই একদম বিপরীত চেহারায় দেখা গেল ম্যানচেস্টার সিটিকে।

ফুটবল

ম্যাচের ৭৪তম মিনিটে যখন মোহামেদ সালাহকে মাঠ থেকে তুলে নেওয়ার

ফুটবল

উইমেন’স সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের মহাজাগতিক মিশনে কোনো তাড়াহুড়ো