রাজশাহীর বিভাগীয় স্টেডিয়ামে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ নারী দল। শ্রীলঙ্কাকে প্রথমবারের মতো ওয়ানডেতে হারিয়ে আইসিসি উইমেন’স চ্যাম্পিয়নশিপের নতুন চক্রে দাপুটে সূচনা করল নিগার সুলতানার দল। তবে অনায়াস জয়ের পথে থাকা ম্যাচটি শেষ মুহূর্তে অবিশ্বাস্য নাটকীয়তায় রূপ নিয়েছিল। ১১ বল আর মাত্র ১ রানের ব্যবধানে ৪ উইকেট হারিয়ে একসময় শঙ্কা জেগেছিল, তবে শেষ পর্যন্ত ৩ উইকেটের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে টাইগ্রেসরা।
শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এর আগে তিনটি ওয়ানডে খেললেও কোনোটিতেই জেতা হয়নি বাংলাদেশের। রাজশাহীর এই অভিষেক আন্তর্জাতিক ম্যাচেই সেই গেরো ভাঙল তারা। জয়ের ভিতটা অবশ্য গড়ে দিয়েছিলেন বোলাররাই। ৬৮ রানের উদ্বোধনী জুটির পরও নাহিদা আক্তার, মারুফা আক্তার ও রিতু মনিদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে শ্রীলঙ্কা ২০৫ রানেই আটকে যায়। বাংলাদেশের হয়ে রিতু মনি ৩৬ রানে ৩ উইকেট নেন, আর নাহিদা পান ২ উইকেট। এছাড়া পেসার মারুফা ৮ ওভারে মাত্র ২৪ রান দিয়ে ছিলেন বেশ কিপটে।
২০৬ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুতেই চরম বিপদে পড়েছিল বাংলাদেশ। প্রথম দুই ওভারেই ২ উইকেট হারায় দল। সেখান থেকে দলকে উদ্ধার করেন শারমিন আক্তার সুপ্তা। ৩ নম্বরে নেমে ১২৭ বলে ৮৬ রানের চোখধাঁধানো এক ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা হন তিনি। সুপ্তার এই ইনিংসেই জয়ের বন্দরে নোঙর করার স্বপ্ন দেখে বাংলাদেশ। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন সোবহানা মোস্তারি (৪১), যদিও পায়ে টান লাগায় তিনি মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন।
জয়ের জন্য যখন মাত্র ৭ রান প্রয়োজন, তখন হঠাতই পথ হারায় বাংলাদেশ। বড় শট খেলতে গিয়ে স্টাম্পড হন সুপ্তা, স্বর্ণা আক্তার এবং রিতু মনি। রাবেয়া খানও ফিরে যান দ্রুত। আচমকা ৪ উইকেট হারিয়ে ড্রেসিংরুমে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়লেও নাহিদা আক্তার ও সুলতানা খাতুন মিলে বাকি কাজটুকু সারেন ৯ বল হাতে রেখেই।
শ্রীলঙ্কার নিয়মিত অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তু এই ম্যাচে না থাকায় দলটির ব্যাটিংয়ে বেশ ছন্নছাড়া ভাব দেখা গেছে। দুই ব্যাটার হাফ সেঞ্চুরি করলেও শেষ ১০ ওভারে প্রত্যাশিত গতিতে রান তুলতে ব্যর্থ হয় তারা।