চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের কিউরেটর জাহিদ রেজা বাবু মানুষ হিসেবে বেশ আমুদে আর আড্ডাবাজ। কথা বলতে তাঁর ক্লান্তি নেই। কিন্তু উইকেটের প্রসঙ্গ তুললেই যেন তিনি পুরোপুরি বদলে যান। তখন হয় তাঁর মুখে রহস্যময় হাসি, নয়তো একদম চুপ; কোনোভাবেই উইকেটের গোপন রহস্য ফাঁস করবেন না তিনি।
বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড টি-টোয়েন্টি সিরিজের উইকেট কেমন হবে—তা জানতে চাইলেও জাহিদ বাবুর কাছ থেকে কোনো কূলকিনারা পাওয়া যায়নি। তবে কিউরেটর বাবু আর বিসিবির টার্ফ ম্যানেজমেন্ট প্রধান টনি হেমিংয়ের ওপর পূর্ণ আস্থা রাখছেন অধিনায়ক লিটন কুমার দাস। তাঁর বিশ্বাস, এবারের সিরিজে দর্শকরা বেশ ভালো উইকেটই দেখতে পাবেন।
উইকেট নিয়ে লিটন বলেন, “আমি উইকেট দেখেছি। এটা তো দুই দলের জন্যই সমান। খেলা শুরু না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা কঠিন। তবে দেখে মনে হচ্ছে ব্যাটিং সহায়ক উইকেটই হবে। আমাদের নতুন কিউরেটর (হেমিং) বেশ কিছুদিন ধরেই আমাদের ভালো উইকেট উপহার দিচ্ছেন, আশা করি এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না।”
বাইরে থেকে দেখলে উইকেটের চেহারা ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচটির মতোই মনে হচ্ছে; বেশ হালকা ঘাসের ছোঁয়া আছে। রোববার বিকেলে কিউইদের অনুশীলন শেষে কিউরেটর বাবু ও টনি হেমিংকে মাঠকর্মীদের নিয়ে উইকেটের বাউন্স পরখ করতে দেখা গেছে। দূর থেকে দেখে মনে হয়েছে, বাউন্স বেশ সমান এবং নির্ভরযোগ্য।
এমনিতে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের উইকেটকে দেশের অন্যতম সেরা ব্যাটিং স্বর্গ বলা হয়। ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচে উইকেট পুরোপুরি ব্যাটিং বান্ধব না হলেও পেসার ও ব্যাটার—উভয় পক্ষের জন্যই সুবিধা ছিল। টি-টোয়েন্টি সিরিজের ম্যাচগুলো শুরু হবে দুপুর ২টায়। দিনের ম্যাচ হওয়ার কারণে উইকেটের আচরণে কিছুটা ভিন্নতা আসতে পারে।
এই মাঠে এখন পর্যন্ত দিনের আলোয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচ হয়েছে মাত্র ৫টি। সবশেষ ম্যাচে আয়ারল্যান্ড ১১৭ রানে গুটিয়ে গেলেও বাংলাদেশ তা তাড়া করেছিল মাত্র ১৩.৪ ওভারে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১৬৫ রান করে জয়ের নজিরও আছে। আবার একই মাঠে ২০২ বা ২০৭ রানের পাহাড় গড়ার ইতিহাসও খুব বেশি পুরোনো নয়।
কিউই অধিনায়ক টম ল্যাথামও অতীতের এই পরিসংখ্যানগুলো থেকে ধারণা নেওয়ার চেষ্টা করছেন। সংবাদ সম্মেলনের আগে উইকেট দেখার সুযোগ না পেলেও তিনি আশাবাদী যে, পুরো ৪০ ওভার উইকেট একই রকম আচরণ করবে।