আর্থিক অনিয়মের পাহাড়সম অভিযোগ আর প্রবল জনরোষের মুখে শেষ পর্যন্ত নতিস্বীকার করলেন শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের (এসএলসি) সভাপতি শাম্মি সিলভা। সরকারের পক্ষ থেকে বারবার দায়িত্ব ছাড়ার অনুরোধ আসার পর অবশেষে পদত্যাগ করেছেন তিনি। সিলভার সঙ্গে বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বোর্ডের নির্বাহী কমিটির বাকি সদস্যরাও।
গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, জনরোষের মুখে থাকা সিলভাকে পদত্যাগ করার জন্য সরাসরি অনুরোধ করেছিলেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনূঢ়া কুমারা দিশানায়েকে। গত শুক্রবার দুই পক্ষের এক বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয় এবং সম্মানজনক বিদায়ের পথ খুঁজতেই এই সম্মিলিত পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বোর্ড সভাপতির এই পদত্যাগ আজ থেকেই কার্যকর হচ্ছে।
শাম্মি সিলভার বিদায়ের পর এখন শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটে একটি অন্তর্বর্তীকালীন কমিটি নিয়োগ দিতে যাচ্ছে লঙ্কান সরকার। ধারণা করা হচ্ছে, সাবেক সংসদ সদস্য এরান উইক্রামারাত্নে এই কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া ক্রিকেটীয় জ্ঞান ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কমিটিতে সাবেক দুই কিংবদন্তি ক্রিকেটার সিদাথ ওয়েত্তিমুনি ও রোশান মহানামাকেও রাখা হতে পারে।
২০১৯ সালে দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত থিলাঙ্গা সুমাথিপালার স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন শাম্মি সিলভা। এরপর টানা চারবার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন তিনি, যার মধ্যে তিনবারই নির্বাচিত হয়েছিলেন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। সিলভার সাত বছরের এই লম্বা সময়ে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটে সাফল্যের চেয়ে ব্যর্থতার পাল্লাই ছিল বেশি ভারী। তাঁর সময়ে পুরুষ ও নারী দল এশিয়া কাপ জিতলেও বড় টুর্নামেন্টগুলোতে লঙ্কানদের পারফরম্যান্স ছিল যাচ্ছেতাই। বিশেষ করে ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপে নবম হওয়া এবং ২০২৪ ও ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভরাডুবির পর থেকেই তাঁর পদত্যাগের দাবি জোরালো হয়।
চলতি মাসের শুরুতে গ্যারি কার্স্টেনকে কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েও শেষ রক্ষা হলো না সিলভার। ক্রিকেট অনুরাগী আর সরকারের চাপের মুখে অবশেষে ভেঙেই গেল তাঁর নেতৃত্বাধীন দীর্ঘদিনের বোর্ড।