চট্টগ্রামের আকাশ যেন আজ থামতেই চাইছে না। অবিরাম বৃষ্টির কারণে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ড—দুই দলই সময়মতো মাঠে পৌঁছালেও খেলা শুরু হওয়ার কোনো লক্ষণ নেই। ড্রেসিংরুমের চার দেয়ালের মাঝে অলস সময় কাটছে ক্রিকেটারদের। তবে এই আড্ডার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে ঘুরেফিরে আসছে গত ম্যাচের সেই অবিশ্বাস্য জয় আর শামীম হোসেনের সেই চোখধাঁধানো ছক্কা। বৃষ্টির দিনে ড্রেসিংরুমের আড্ডার ফাঁকে শামীম নিজেই শোনালেন সেই শট রপ্ত করার পেছনের গল্প।
নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে যখন শামীম ক্রিজে যান, জয়ের জন্য রান রেট বাড়াতে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের বিকল্প ছিল না। মুখোমুখি হওয়া মাত্র তৃতীয় বলেই ন্যাথান স্মিথের শর্ট বলকে পুল আর স্কুপের অদ্ভুত এক মিশেলে সীমানা পার করেন তিনি। বল ব্যাটে লাগার সময় তিনি বলের দিকে তাকিয়েও ছিলেন না, যা আধুনিক ক্রিকেটে ‘নো লুক শট’ নামে পরিচিত। চোখের পলকে বল কিপারের মাথার ওপর দিয়ে গ্যালারিতে গিয়ে আছড়ে পড়ে।
ঐ ছক্কার পর আরও একটি ছক্কা আর তিনটি চারে মাত্র ১৩ বলে ৩১ রানের অপরাজিত টর্নেডো ইনিংস খেলেন শামীম। তাওহিদ হৃদয়ের সঙ্গে তাঁর ২১ বলে ৪৯ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিটিই ম্যাচ দুই ওভার বাকি থাকতেই শেষ করে দেয়।
আজ দ্বিতীয় ম্যাচেও শামীম সেই বিধ্বংসী মেজাজে থাকতে পারতেন কি না, তা বৃষ্টির কারণে অজানাই থেকে যাচ্ছে। এই বিরতির মাঝে টিভি সাক্ষাৎকারে শামীম বলেন, “আমি যখনই মাঠে নামি, ইতিবাচক থাকার চেষ্টা করি। ওই সময় দলের রান খুব দরকার ছিল, তাই নিজের ওপর বিশ্বাস রেখে শটগুলো খেলেছি। আল্লাহর রহমতে সফল হয়েছি।”
আর সেই বিখ্যাত ছক্কাটি নিয়ে শামীম জানালেন তাঁর অনুপ্রেরণার কথা। দক্ষিণ আফ্রিকান কিংবদন্তি এবি ডি ভিলিয়ার্সের অন্ধ ভক্ত শামীম তাঁকে দেখেই এই শট শিখেছেন। শামীমের ভাষ্যমতে, “আসলে এটা আমি অনেক দিন ধরে প্র্যাকটিস করছি। আমি ডি ভিলিয়ার্সের ব্যাটিং খুব বেশি দেখি। নেটে সবসময় চেষ্টা করি কীভাবে এমন ইম্প্রোভাইজড শট খেলা যায়। পরিশ্রম করেছি বলেই এখন ম্যাচেও আত্মবিশ্বাস পাচ্ছি।”
মাঠে এসে খেলার অপেক্ষায় বসে থাকাটা যে কোনো ক্রিকেটারের জন্যই বিরক্তিকর। তবে শামীম বেশ পরিণত উত্তর দিলেন, “পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে আমাদের সবসময় প্রস্তুত থাকতে হয়। আবহাওয়া তো আমাদের হাতে নেই। তাই মানসিকভাবে তৈরি থাকি যে যেকোনো মুহূর্তে খেলা শুরু হতে পারে।”