নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেট ইতিহাসের সফলতম টি-টোয়েন্টি বোলার ইশ সোধি। ২০১৩ সালে এই চট্টগ্রাম দিয়েই শুরু হয়েছিল তাঁর আন্তর্জাতিক পথচলা। এক যুগ পর সেই চট্টগ্রামেই টিম সাউদিকে ছাড়িয়ে কিউইদের হয়ে সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে সর্বোচ্চ উইকেটের মালিক হলেন ৩৩ বছর বয়সী এই লেগ স্পিনার।
সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশগুলো তুলে ধরা হলো:
নামের বিবর্তন: ইন্দারবির থেকে যেভাবে ‘ইশ’
ইশ সোধির পুরো নাম ইন্দারবির সিং সোধি। এই নাম ছোট হয়ে ‘ইশ’ হওয়ার পেছনে আছে মজার গল্প। সোধি জানান, ছোটবেলায় বাবা-মা তাকে ‘ইশু’ ডাকতেন। নিউজিল্যান্ডে যাওয়ার পর কিউইদের জন্য ‘ইন্দারবির’ উচ্চারণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। তখন এক গল্পের বইয়ের ‘ইশমায়েল’ নামক পাখির চরিত্রের সঙ্গে মিলিয়ে বন্ধুরা তাকে ‘বার্ডি’ এবং পরে ‘ইশমায়েল’ থেকে সংক্ষেপে ‘ইশ’ ডাকতে শুরু করে।
পাঞ্জাব থেকে নিউজিল্যান্ড: এক দীর্ঘ ভ্রমণ
সোধির জন্ম ভারতের পাঞ্জাবে। দেশভাগের আগে তাঁর দাদা-দাদি পাকিস্তান ছেড়ে ভারতে থিতু হয়েছিলেন। সোধির বয়স যখন ৪, তখন তাঁর বাবা-মা উন্নত ভবিষ্যতের আশায় বিদেশ পাড়ি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। প্রথমে কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হওয়ার পর ১৯৯৬ সালে তাঁরা নিউজিল্যান্ডে পৌঁছান। দক্ষিণ অকল্যান্ডের সাধারণ এক উপশহর থেকে উঠে এসে আজ দেশের সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী হওয়া সোধির কাছে এক বিশাল গর্বের বিষয়।
টেস্ট ক্রিকেট ও লেগ স্পিনের টিকে থাকার লড়াই
সোধির ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল টেস্ট দিয়ে। তবে আধুনিক ক্রিকেটে ফিঙ্গার স্পিনারদের দাপটে লেগ স্পিনারদের টেস্ট ক্যারিয়ার লম্বা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সোধি বলেন, “টেস্ট ম্যাচ জয়ের অংশ হওয়াটা আমার কাছে পৃথিবীর সবচেয়ে তৃপ্তিদায়ক অনুভূতি। আমি আবারও টেস্টের বিবেচনায় থাকতে চাই।” মাত্র ২১টি টেস্ট খেললেও তিনি মনে করেন না তাঁর ক্যারিয়ার অপূর্ণ। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে বেশি সময় দিতে না পারাকেই তিনি টেস্ট ক্যারিয়ার দীর্ঘ না হওয়ার কারণ হিসেবে দেখেন।
সাকিব আল হাসানকে নিয়ে মুগ্ধতা
২০১৩ সালে চট্টগ্রাম টেস্টে সাকিবের বলে এলবিডব্লিউ হওয়ার স্মৃতি সোধির মনে এখনো টাটকা। তিনি বলেন, “ব্যাট করতে নেমে সাকিবের মুখোমুখি হওয়াটা ছিল অন্যরকম। বলটা তাঁর হাত থেকে বের হওয়ার সময় এত বেশি ঘূর্ণন আর ড্রিফট ছিল যে, আমি কিছু বোঝার আগেই প্যাডে লেগে গেল। তখনই বুঝেছিলাম টেস্ট ক্রিকেটের মান কত উঁচুতে।”
শেন ওয়ার্ন ও ড্যানিয়েল ভেটোরি
সোধির ওপর শেন ওয়ার্নের প্রভাব অপরিসীম। তিনি এখনো ফ্লিপারে উইকেট পেলে ওয়ার্নকে (মরহুম হওয়ার আগে পর্যন্ত) টেক্সট পাঠাতেন বা তাঁর ভিডিও দেখে শেখার চেষ্টা করতেন। অন্যদিকে ড্যানিয়েল ভেটোরি ছিলেন তাঁর ঘরের ‘ঈশ্বর’। ভেটোরির বিদায়ী টেস্টে তাঁর সঙ্গে খেলার সুযোগ পাওয়াকে জীবনের পরম সৌভাগ্য মনে করেন তিনি।
রিশাদ হোসেনকে নিয়ে উচ্চাশা
বাংলাদেশের তরুণ লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেনের বোলিং সোধিকে মুগ্ধ করেছে। সোধি বলেন, “সে প্রথাগত লেগ স্পিনার। লম্বা হওয়ার কারণে সে বাড়তি বাউন্স পায়। আমি তাঁর মধ্যে তিন সংস্করণেই খেলার সম্ভাবনা দেখি। সে যেভাবে টি-টোয়েন্টিতে প্রথাগত লেগ স্পিন করে সফল হচ্ছে, তা সত্যিই বিশেষ কিছু।”
আইপিএল ও ‘মাল্টি-স্কিল’ এর গুরুত্ব
আইপিএলে খুব বেশি সুযোগ না পাওয়া নিয়ে সোধি বেশ বাস্তববাদী। তাঁর মতে, ভারতে প্রচুর ভালো স্পিনার আছে। তাই কোনো বিদেশি স্পিনারকে দলে নিতে হলে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো এমন কাউকে খোঁজে যারা ব্যাটিংয়েও পারদর্শী (যেমন মিচেল স্যান্টনার)। এ কারণে তরুণ স্পিনারদের তিনি পরামর্শ দেন শুরু থেকেই যেন তারা ছক্কা মারাও রপ্ত করে।