বিসিবি’র নির্বাচিত পর্ষদ ভেঙে দিয়ে তামিম ইকবালকে সভাপতি করে গঠিত ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটির বৈধতা নিয়ে এবার আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। এই কমিটিকে ‘অবৈধ’ ঘোষণার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেছেন সাতজন আইনজীবী। একইসঙ্গে অ্যাডহক কমিটি গঠনের প্রজ্ঞাপনের ওপর স্থগিতাদেশও চাওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী গোলাম কিবরিয়াসহ সাতজন আইনজীবী হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এই আবেদনটি জমা দেন। রিটকারীদের দাবি, নির্বাচিত কমিটি ভেঙে অ্যাডহক কমিটি গঠনের এই সিদ্ধান্ত জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইন এবং স্বাভাবিক ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও আইনি যুক্তি
গত বছরের ৬ অক্টোবর বিসিবি’র নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে গত ৭ এপ্রিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সেই নির্বাচিত কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করে। যুক্তি হিসেবে বলা হয়, একজন বিচারপতির নেতৃত্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে ওই নির্বাচন ‘ত্রুটিপূর্ণ’ প্রমাণিত হয়েছে। এরপরই তামিম ইকবালকে প্রধান করে ১১ সদস্যের নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়।
রিটকারী আইনজীবী গোলাম কিবরিয়া জানান, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ আইন-২০১৮ এর ২১ ধারার দোহাই দিয়ে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা আসলে বেআইনি। তাঁর মতে:
- আইন অনুযায়ী, নির্বাচন ত্রুটিপূর্ণ হওয়ার অজুহাতে কোনো নির্বাচিত কমিটি ভেঙে দেওয়ার সুযোগ নেই।
- অ্যাডহক কমিটি গঠনের যে দুটি সুনির্দিষ্ট কারণ আইনে বলা আছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তার কোনোটিই বিদ্যমান নেই।
- একটি বিধিবদ্ধ সংস্থার নির্বাচিত পর্ষদকে এভাবে ভেঙে দেওয়া সাংবিধানিক অধিকারের লঙ্ঘন।
তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন অ্যাডহক কমিটি
এনএসসি’র প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী গঠিত ১১ সদস্যের এই কমিটিতে তামিম ইকবাল ছাড়া আরও রয়েছেন মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, আতাহার আলী খান, ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম ও তানজিল চৌধুরীর মতো ব্যক্তিরা।
পুরোনো রিটের সাথে বর্তমানের সম্পর্ক
নির্বাচন নিয়ে আগে থেকেই একটি আইনি জটিলতা চলছিলো। সাবেক ক্রিকেটার আমিনুল ইসলাম বুলবুলের একটি চিঠির প্রেক্ষিতে হাইকোর্ট নির্বাচন স্থগিত করলেও পরে চেম্বার আদালত তা সচল করে দেন। তবে বর্তমান রিটকারী আইনজীবীরা জানিয়েছেন, আগের সেই মামলার সঙ্গে এই রিটের সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তারা মূলত নির্বাচিত কমিটি ভেঙে অ্যাডহক কমিটি গঠনের ‘প্রক্রিয়াটি’কে চ্যালেঞ্জ করছেন।
খুব শিগগিরই এই রিট আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।