পরিবারের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে পড়ালেখা মাঝেমধ্যেই থেকে যেতো লুচানো জোবার। জীবনের সেই কঠিন সময়ের গল্প প্রথমবার জাতীয় দলে যোগ দিয়ে নিজের ভাষায় শোনালেন তিনি।
ব্রাজিলের লেফট-ব্যাক লুচানো জোবার জীবন গল্পটি অনেকটা দেশসেরা ফুটবল খেলোয়াড়দের মতোই: অর্থনৈতিকভাবে সীমিত পরিবার থেকে উঠে আসা, জীবনের কঠিন পরীক্ষা পেরিয়ে নিজের জয়ের আলো ফুটিয়ে তোলা। জাতীয় দলে প্রথম ডাক পাওয়ার পর তার কণ্ঠে আত্মবিশ্বাস আর আনন্দ দুটোই স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।
বাংলাদেশ সময় ৩ নভেম্বর, দুই প্রীতি ম্যাচের জন্য ব্রাজিলের দল ঘোষণা হওয়ার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সোফায় বসে টিভিতে কোচ কার্লো আনচেলত্তির দলের নাম ঘোষণা দেখছিলেন জোবা। তার নাম উচ্চারিত হতেই পরিবারের সবাই উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন।
সেই উচ্ছ্বাসের মুহূর্ত এখন কিছুটা শান্ত, তবে রোমাঞ্চ আজও বজায় আছে। ক্লাব ফুটবলে উজ্জ্বল পারফরম্যান্স দেখিয়ে জাতীয় দলে ডাক পাওয়া, জোবার জীবনের মূল লক্ষ্য পূরণের প্রথম ধাপ। এখন আরও কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে, এবং সে জানে প্রস্তুত থাকতে হবে।
জাতীয় দলের সঙ্গে যোগ দিতে সোমবার লন্ডনে পৌঁছেছেন জোবা। সকালে আসার পর বিকেলে আর্সেনালের অনুশীলন মাঠে অংশ নেন। আগামী শনিবার এমিরেটস স্টেডিয়ামে সেনেগালের বিরুদ্ধে মাঠে নামবেন তিনি ও তার সতীর্থরা।
সিবিএফ টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জোবা অল্প কথায় জীবনের স্বপ্ন পূরণের গল্প শেয়ার করেছেন। প্রথম দিন জাতীয় দলের অনুশীলনে যোগ দেওয়ার আনন্দ তার কণ্ঠে স্পষ্ট।
“আজ আমার জন্য বিশেষ একটি দিন। জাতীয় দলে প্রথম ডাক পাওয়া এবং প্রথম অনুশীলন সেশন—সবকিছুই খুব স্মরণীয়। অসাধারণ খেলোয়াড়দের সঙ্গে অনুশীলন করতে পারা আমার জন্য সম্মানের। ঈশ্বর আমাকে যা দিচ্ছেন, তার জন্য কৃতজ্ঞ। আমি চাই এই সুযোগ সর্বোচ্চ কাজে লাগাতে পারি।”
জোবা জানালেন, জীবনে কত ঝড়, কত পরীক্ষা পেরিয়ে এই জায়গায় পৌঁছেছেন। “মাথার মধ্যে যেন একটা সিনেমা চলছিল—জাতীয় দলে আসার স্বপ্ন দেখার দিন থেকে টিভিতে নাম শোনার দিন পর্যন্ত, যখন ফুটবল শুরু করেছি, যুব প্রকল্পে যোগ দিয়েছি, পেশাদার ফুটবলার হয়েছি।”
রেসিফের জাবুয়াতো দস গুয়ারারাপিস এলাকায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা জোবার ছোটবেলায় পড়ালেখা নিয়মমাফিক করা সম্ভব হয়নি। ১৫ বছর বয়সে ক্লাবের যুব দলে ঢোকার চেষ্টায় থাকলেও তাকে দাদার সঙ্গে ট্রাকে কাজ করতে হতো।
“আমার দাদা ট্রাকে মাল ওঠানো-নামানোর কাজ করতেন। আমরা ভোরে বের হতো এবং রাতভর কাজ করতাম। তাই মাঝে মাঝে স্কুলে যাওয়ার সময় হতো না। এখন পিছনে তাকিয়ে কষ্ট অনুভব করি না, বরং গর্বিত। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ, পরিবারকে আগের চেয়ে ভালো জীবন দিতে পেরেছি এবং এখন জাতীয় দলে।।”
এই বছরের ক্লাব বাহিয়ায় ৬ গোল ও ৮টি অ্যাসিস্ট করেছেন জোবা—একজন ডিফেন্ডারের জন্য অসাধারণ পরিসংখ্যান। ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের জন্য বাহিয়ার মৌসুমের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন, জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন এবং কোচ আনচেলত্তির প্রশংসাও পেয়েছেন।
“ঈশ্বরকে ধন্যবাদ। বাহিয়ায় দারুণ মৌসুম কাটিয়েছি। আজ জাতীয় দলে প্রথমবার অনুশীলন করতে পেরে সম্মানিত বোধ করছি। আশা করি দুই ম্যাচে দারুণ ফুটবল খেলব এবং দেশের জন্য ইতিবাচক ফল এনে দিতে পারব।”
সেনেগালের বিপক্ষে ম্যাচের চার দিন পর তিউনিসিয়ার বিপক্ষে বছরের শেষ ম্যাচ খেলবে পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা।