ইতিহাস গড়ার হাতছানি নিয়ে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো উইমেন’স এশিয়ান কাপের মূল মঞ্চে পা রাখা। প্রতিপক্ষ ৯ বারের চ্যাম্পিয়ন ও বর্তমান শিরোপাধারী শক্তিশালী চীন। র্যাঙ্কিংয়ের বিশাল ব্যবধান (১৭ বনাম ১১২) ভুলে সিডনির কমব্যাঙ্ক স্টেডিয়ামে লাল-সবুজের মেয়েরা যা খেলল, তাতে জয় না এলেও মন জিতেছে হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশির।
ম্যাচের বাঁকবদল: ঋতুপর্ণার সেই শট ও চীনের পাল্টা আঘাত
খেলার ১৪তম মিনিটেই স্তব্ধ হয়ে যেতে পারত চীন। প্রায় ৩৫ গজ দূর থেকে ঋতুপর্ণা চাকমার নেওয়া সেই মাপা শটটি যখন জালের দিকে ছুটছিল, গ্যালারি তখন গোলের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে। কিন্তু চীনের ৬ ফুট লম্বা গোলরক্ষক চেন চেনের অতিমানবীয় সেভে সে যাত্রায় রক্ষা পায় বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।
বাংলাদেশ যখন চোখে চোখ রেখে লড়াই করছিল, ঠিক তখনই প্রথমার্ধের শেষ দিকে দৃশ্যপট বদলে যায়। ৪৪ মিনিটে ওয়াংয়ের দারুণ এক কোণাকুণি শটে লিড নেয় চীন। ধাক্কাটা সামলে ওঠার আগেই যোগ করা সময়ে রক্ষণের ভুলে ব্যবধান দ্বিগুণ হয়। কোহাতি কিস্কুর গায়ে লেগে বল দিক পরিবর্তন করলে গোলরক্ষক মিলির আর কিছুই করার ছিল না।
বাটলারের চমক ও দ্বিতীয় হাফের লড়াই
কোচ পিটার জেমস বাটলার এদিন অভিজ্ঞ রূপনা চাকমার বদলে পোস্টের নিচে তরুণ মিলি আক্তারের ওপর আস্থা রেখে কিছুটা চমক দিয়েছিলেন। মিলিও হতাশ করেননি, বেশ কিছু দুর্দান্ত সেভ করে ব্যবধান বাড়তে দেননি। বিরতির পর তহুরা, স্বপ্না ও হালিমো খাতুনদের নামিয়ে আক্রমণের ধার বাড়ানোর চেষ্টা করেন বাটলার। ৫৯ মিনিটে তহুরার হেড লক্ষ্যভ্রষ্ট না হলে হয়তো ফেরার গল্পটা অন্যরকম হতে পারত।
ম্যাচের ৮৬ মিনিটে সুইডেন প্রবাসী মিডফিল্ডার আনিকা রানিয়া সিদ্দিকীর অভিষেক ছিল বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য নতুন এক মাইলফলক।
এক নজরে ম্যাচের পরিসংখ্যান
| বিষয় | বাংলাদেশ | চীন |
| ফলাফল | ০ | ২ |
| র্যাঙ্কিং | ১১২ | ১৭ |
| বিশেষ প্রাপ্তি | এশিয়ান কাপে প্রথম অংশগ্রহণ | শিরোপা ধরে রাখার শুভসূচনা |