টাইব্রেকারে যখন রোনান সুলিভানের সেই জাদুকরী ‘পানেনকা’ শট ভারতের গোলকিপারকে ফাঁকি দিয়ে জালে জড়াল, তখন পুরো স্টেডিয়াম যেন এক নিমিষেই প্রকম্পিত হয়ে উঠল। দুই হাত প্রসারিত করে রোনান যখন গ্যালারির দিকে ছুটলেন, তখন তার পেছনে পুরো দল আর কোচিং স্টাফদের বাঁধভাঙা উল্লাসই বলে দিচ্ছিল এই জয়ের মাহাত্ম্য। সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ভারতকে প্রথমবারের মতো হারানোর স্বাদটা এমনই রাজকীয় ছিল। মালদ্বীপের মালেতে নির্ধারিত সময়ের খেলা গোলশূন্য থাকলেও টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানের এই জয় বাংলাদেশের ফুটবলে এক নতুন রূপকথা লিখে দিল।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে কোচ মার্ক কক্স বাংলাদেশে তার ক্যারিয়ারের প্রথম শিরোপার দেখা পেলেন। নিজের দেশ ইংল্যান্ডের পেনাল্টি শুটআউটের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা মাথায় রেখে তিনি চেয়েছিলেন ৯০ মিনিটেই ম্যাচ শেষ করতে। কিন্তু ভাগ্য যখন টাইব্রেকারে গড়াল, তার শিষ্যরা তাকে হতাশ করেনি। টাইব্রেকারের আসল নায়ক গোলকিপার ইসমাইল হোসেন মাহিন ভারতের প্রথম শটটি রুখেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিয়েছিলেন। সেই মুহূর্তের অনুভূতি জানিয়ে মাহিন বলেন, “অসাধারণ এক অনুভূতি! মনে হচ্ছিল আমি যেন ২০ কোটি মানুষের স্বপ্নকে নিজের হাতে আগলে রাখছি।”
দলের এমন সাফল্যে আত্মহারা খেলোয়াড়রা নিজেদের এই অর্জনকে উৎসর্গ করেছেন প্রিয়জনদের। টাইব্রেকারে প্রথম গোল করা মুর্শেদ আলির কণ্ঠে ছিল কেবলই রোমাঞ্চ আর উত্তেজনার রেশ। অন্যদিকে, গোলদাতা আব্দুল রিয়াদ ফাহিম এই জয়কে ‘স্বপ্নের ফাইনাল’ আখ্যা দিয়ে পুরো কৃতিত্ব দিয়েছেন দেশবাসীকে। তবে এই আনন্দের মহোৎসবেও অধিনায়ক মিঠু চৌধুরীর মনে পড়েছে তার চোটাক্রান্ত সতীর্থ আশিকুর রহমানের কথা। গ্রুপ পর্বে ভারতের বিপক্ষে চোট পেয়ে ছিটকে পড়া বন্ধুর কথা স্মরণ করে অধিনায়ক আবেগভরে বলেন, “চার বছর ধরে এই ট্রফিটার অপেক্ষায় ছিলাম। আশিক পাশে থাকলে আনন্দটা পূর্ণতা পেত। আজকের এই ট্রফিটা আমি আমার বন্ধু আশিককেই উৎসর্গ করছি।”