প্যারিসের মাঠে এক সময় মনে হচ্ছিল বড় ব্যবধানের পরাজয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে হবে বায়ার্ন মিউনিখকে। কিন্তু খাদের কিনারা থেকে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় তারা। শেষ পর্যন্ত পিএসজির ঘরের মাঠে হারলেও ব্যবধানটা মাত্র এক গোলের (৫-৪)। দলের এই লড়াকু মানসিকতায় মুগ্ধ বায়ার্ন তারকা হ্যারি কেইন। সেমিফাইনালের ফিরতি লেগটি নিজেদের চেনা আঙিনা আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় হওয়ায় এখন চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনাল খেলার স্বপ্ন দেখছেন এই ইংলিশ স্ট্রাইকার।
মঙ্গলবার রাতে প্যারিসে আক্রমণ আর পাল্টা-আক্রমণের এক রুদ্ধশ্বাস ম্যাচ উপভোগ করল ফুটবল বিশ্ব। ১৭তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে বায়ার্নকে শুরুতেই লিড এনে দিয়েছিলেন কেইন। তবে সেই আনন্দ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ২৪তম মিনিটে কাভিচা কাভারাৎসখেলিয়া পিএসজিকে সমতায় ফেরান। এরপর জোয়াও নেভেস স্বাগতিকদের এগিয়ে নিলেও বায়ার্নের ওলিসে গোল শোধ করেন। কিন্তু প্রথমার্ধেই উসমান দেম্বেলের গোলে আবারও লিড নেয় লুইস এনরিকের দল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে পিএসজি যেন আরও বিধ্বংসী হয়ে ওঠে। কাভারাৎসখেলিয়া ও দেম্বেলে দুজনেই নিজেদের দ্বিতীয় গোলটি করলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৫-২। তখন মনে হচ্ছিল বায়ার্নের বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে। কিন্তু দমে যাননি কেইনরা; ম্যাচের শেষ দিকে দায়ত উপামেকানো ও লুইস দিয়াসের গোলে ব্যবধান কমিয়ে লড়াইয়ে টিকে থাকে জার্মান চ্যাম্পিয়নরা।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালের এক লেগের ইতিহাসে এটিই সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড। ইউরোপিয়ান কাপের যুগ ধরলে এটি ১৯৫৯-৬০ মৌসুমের রেঞ্জার্স ও আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্ট ম্যাচের (৬-৩) রেকর্ডের পাশে নাম লিখিয়েছে।
এমন রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের পর কেইন বিশ্বাস করেন, আলিয়াঞ্জ অ্যারেনায় বায়ার্নই ফেবারিট। তিনি বলেন, “আগামী সপ্তাহে যারা সুযোগগুলো ঠিকঠাক কাজে লাগাতে পারবে, তারাই ফাইনালে যাবে। আমরা যেভাবে ৫-২ গোলে পিছিয়ে থেকেও লড়াইয়ে ফিরে এসেছি, তাতে আমি গর্বিত। প্রতিপক্ষের মাঠে অত বড় ব্যবধানে পিছিয়ে থাকাটা মানসিকভাবে অনেক কঠিন, কিন্তু আমরা হার মানিনি।”
কেইন আরও যোগ করেন, “ঘরের মাঠে সমর্থকদের উন্মাদনা আমাদের বাড়তি শক্তি জোগাবে। আমাদের লক্ষ্য এখন পরিষ্কার—পরের লেগ জিতে ফাইনালে যাওয়া।” আগামী বুধবার ফিরতি লেগে আবারও মুখোমুখি হবে এই দুই ফুটবল পরাশক্তি।