বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে যাদের কাছে পাত্তাই পায়নি, সেই নিউজিল্যান্ডকে এবার তাদেরই ঘরের মাঠে নাস্তানাবুদ করল দক্ষিণ আফ্রিকা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের রানার্সআপ কিউইরা এবার ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে কোনো লড়াই-ই গড়ে তুলতে পারেনি। মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৭ উইকেটের বড় জয় দিয়ে সিরিজে শুভসূচনা করল প্রোটিয়ারা।
অভিষিক্তদের দাপটে দিশেহারা কিউইরা
নিউজিল্যান্ডের দেওয়া মাত্র ৯২ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ২০ বল বাকি থাকতেই জয় নিশ্চিত করে দক্ষিণ আফ্রিকা। এই সহজ জয়ের কারিগর দুই নতুন মুখ—বোলার নোবানি মোকোয়েনা এবং ব্যাটসম্যান কনর এস্তারহুইজেন। ১৯ বছর বয়সী পেসার মোকোয়েনা ২৬ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন। আর রান তাড়ায় অপরাজিত ৪৫ রানের দারুণ এক ইনিংস খেলেন এস্তারহুইজেন।
তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়া ব্যাটিং
টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিলেও নিউজিল্যান্ডের শুরুটা ছিল ভয়াবহ। প্রথম ওভারেই উইকেট হারানোর পর পাওয়ার প্লের মধ্যেই মাত্র ৩৬ রানে ৫ ব্যাটসম্যান সাজঘরে ফেরেন। জিমি নিশামের ২৬ রান ছাড়া আর কেউই সেভাবে দাঁড়াতে পারেননি। ফলে মাত্র ১৪.৩ ওভারে ৯১ রানেই গুটিয়ে যায় কিউইদের ইনিংস। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে কোয়েটজি, বার্টম্যান ও মহারাজ প্রত্যেকেই ২টি করে উইকেট নিয়ে কিউইদের কোমর ভেঙে দেন।
অনায়াস জয় ও বিশ্বকাপের সেই স্মৃতি
রান তাড়া করতে নেমে ডি জর্জি ও রুবিন হার্মান দ্রুত বিদায় নিলেও কনর এস্তারহুইজেনের ৪৮ বলের দায়িত্বশীল ইনিংসে জয় পেতে কোনো বেগ পেতে হয়নি প্রোটিয়াদের।
কয়েকদিন আগের বিশ্বকাপে এই নিউজিল্যান্ডের কাছেই পাত্তাই পায়নি দক্ষিণ আফ্রিকা। সেই ম্যাচে ফিন অ্যালেন ও টিম সাইফার্টের ব্যাটে উড়ে গিয়েছিল তারা। যদিও এই সিরিজে দুই দলই তাদের বিশ্বকাপ স্কোয়াডের অনেক নিয়মিত মুখকে বিশ্রাম দিয়েছে, তবুও কিউইদের ডেরায় এই জয় দক্ষিণ আফ্রিকার জন্য বড় এক স্বস্তি। বিশ্বকাপের সেই বিশাল হারের প্রতিশোধ হয়তো একে বলা যায় না, তবে ভক্তদের মনে সেই হারের ক্ষতে কিছুটা প্রলেপ তো অবশ্যই দেবে এই জয়।
সিরিজের বর্তমান অবস্থা:
পাঁচ ম্যাচের সিরিজে দক্ষিণ আফ্রিকা এখন ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে। সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচটি আগামী মঙ্গলবার হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত হবে।