বাংলাদেশের প্রধান কোচ ফিল সিমন্স সাফ জানিয়ে দিলেন, দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় তিনি জীবনে এত কিছু দেখে ফেলেছেন যে, কোনো কিছুতেই আর অবাক হন না।
নিউজিল্যান্ড সিরিজের প্রস্তুতি চলাকালে বিসিবিতে ঘটে গেছে বড় সব ওলটপালট। কয়েক দফার প্রস্তুতি পর্বে কোচিং স্টাফ ও ক্রিকেটারদের সঙ্গে দেখা গেছে আমিনুল ইসলাম বুলবুলকে। এর মধ্যেই তামিম ইকবালের সঙ্গেও দেখা হয়েছে দুইবার। অথচ চোখের পলকে একজনের পরিচয় বদলে হয়ে গেছে সাবেক সভাপতি, আর অন্যজন এখন বিসিবির বর্তমান প্রধান। মাঠের বাইরের এই নাটকীয় পরিবর্তনে অনেকেই চমকে গেলেও সিমন্স বলছেন ভিন্ন কথা। তার দাবি, জীবনের কোনো কিছুই তাকে আর নতুন করে বিস্মিত করে না।
বাংলাদেশের ক্রিকেটে সিমন্সের আগমনটাও ছিল বেশ নাটকীয়। ২০২৪ সালের অক্টোবরে দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের ঠিক আগে হুট করে বরখাস্ত করা হয় চান্দিকা হাথুরুসিংহেকে। পরদিনই ঢাকায় পা রাখেন নতুন কোচ সিমন্স। তখন বিসিবি সভাপতি ছিলেন ফারুক আহমেদ। এরপর মে মাসে ফারুক বিদায় নিলে দায়িত্বে আসেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল, কিন্তু এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই গত ৭ এপ্রিল তার স্থলাভিষিক্ত হন তামিম ইকবাল।
বোর্ডের এই ঘনঘন রদবদল যখন চলছে, তখন মাঠের ক্রিকেটে নিউজিল্যান্ড সিরিজের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ক্রিকেটাররা। বাইরে এত বড় পরিবর্তনের ধাক্কা ক্রিকেটারদের মনে কোনো প্রভাব ফেলেছে কি না—মিরপুরে বুধবারের সংবাদ সম্মেলনে এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় সিমন্সকে। তবে কোচ অভয় দিয়ে জানালেন, দলের প্রস্তুতিতে এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব তিনি দেখেননি।
সিমন্স বলেন, “প্রথমত, আমরা যেভাবে কাজ করি বা আমাদের যে অনুশীলন ক্যাম্প হয়েছে, সেখানে এসবের কোনো প্রভাব পড়েনি। সবকিছু পরিকল্পিতভাবেই শেষ হয়েছে। ক্রিকেটারদের ওপর কোনো প্রভাব পড়েছে কি না, সেটা তাদেরকেই জিজ্ঞেস করা ভালো। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে কোনো মানসিক বাধা দেখিনি। সবাই বরাবরের মতোই কঠোর পরিশ্রম করেছে, কেউ কেউ তো আগের চেয়েও বেশি ঘাম ঝরিয়েছে। সিরিজের জন্য যা যা করা প্রয়োজন, সব ঠিকঠাক চলছে।”
নতুন সভাপতি তামিম ইকবালের সঙ্গেও কয়েকবার দেখা হওয়ার কথা উল্লেখ করে ওয়েস্ট ইন্ডিজের এই সাবেক অলরাউন্ডার শোনালেন তার জীবনদর্শন, “জীবনে কোনো কিছুই আমাকে আর অবাক করে না। এটা শুধু বাংলাদেশের ক্রিকেটের বিষয় নয়, আমি জীবনের কথা বলছি। যথেষ্ট চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আমি বুঝেছি যে, সবকিছুই দিনভিত্তিতে চলে। তাই কোনো কিছুতেই আমি বিস্মিত হই না।”
সভাপতি পদে বারবার পরিবর্তন এলেও নিজের কাজের জায়গায় কোনো বদল আসেনি বলে মনে করেন সিমন্স। তিনি যোগ করেন, “বোর্ডে পরিবর্তন হলেও দল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আমার বা আমাদের কোচিং গ্রুপের কাজে কোনো প্রভাব পড়েনি। তারা তো আর প্রধান কোচ হিসেবে আসছেন না। কাজেই আমি নিজের কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা যা তৈরি করার চেষ্টা করছি, কেউ সেখানে হস্তক্ষেপ করতে চাননি। আমাদের লক্ষ্য আগের মতোই স্থির আছে।”
এই বিষয় নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠলেও শেষে চওড়া হাসি দিয়ে সিমন্স বলেন, “এবার ক্রিকেটের প্রসঙ্গে ফেরা যাক…।”