নিউজিল্যান্ডের শীর্ষ ক্রিকেটারদের প্রায় সবাই এখন ব্যস্ত আইপিএল আর পিএসএলে। এর মধ্যেই কিউইদের জাতীয় দল যেমন বাংলাদেশ সফরে এসেছে, তেমনি তাদের ‘এ’ দলও অবস্থান করছে শ্রীলঙ্কায়। সব মিলিয়ে নিউজিল্যান্ডের চুক্তিবদ্ধ ক্রিকেটারদের প্রায় অর্ধেকই এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যস্ত। এই যে ক্রিকেটারদের বিশাল এক পাইপলাইন বা শক্তির গভীরতা—এর পেছনের মূল রহস্যটি উন্মোচন করলেন কিউইদের প্রধান কোচ রব ওয়াল্টার।
বাংলাদেশে আসা নিউজিল্যান্ড দলটিকে অনভিজ্ঞতার কারণে ‘বি’ বা ‘সি’ দল বলা হলেও, কোচ ওয়াল্টার একে দেখছেন একটি সুপরিকল্পিত প্রক্রিয়া হিসেবে। বৃহস্পতিবার মিরপুরে নিজের প্রথম সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, তরুণ ক্রিকেটারদের বড় মঞ্চে সুযোগ দেওয়াটা তাদের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ।
ওয়াল্টার বলেন, “আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের ক্রিকেটারদের শক্তিশালী প্রতিপক্ষের মুখোমুখি দাঁড় করানোটা সবসময়ই ইতিবাচক। বাংলাদেশ অত্যন্ত মানসম্মত একটি দল, যারা সম্প্রতি পাকিস্তানকে হারিয়ে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণ করেছে। তাই আমাদের অপেক্ষাকৃত কম অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের জন্য বিদেশের কন্ডিশনে এমন কঠিন চ্যালেঞ্জ নেওয়াটা ক্যারিয়ারের জন্য দারুণ প্রাপ্তি।”
অভিজ্ঞতা যে স্রেফ অনুশীলনে পাওয়া যায় না, তা মনে করিয়ে দিয়ে ওয়াল্টার আরও যোগ করেন, “অভিজ্ঞতা কোনো বাজার থেকে কেনা যায় না, এটা কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই অর্জন করতে হয়। আমাদের মূল লক্ষ্য হলো ক্রমাগত শেখা এবং ক্রিকেটার হিসেবে আরও সমৃদ্ধ হওয়া। আমরা এই সফরে সেটাই করে যাব।”
নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের ব্যাপ্তি কতটা বিশাল, তার একটি পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন কোচ। তার মতে, বর্তমানে নিউজিল্যান্ডের প্রায় ৫৪ জন ক্রিকেটার বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে—সেটা আইপিএল, পিএসএল, শ্রীলঙ্কা বা বাংলাদেশে—প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট খেলছে। এই সংখ্যাটি তাদের ঘরোয়া ক্রিকেটে চুক্তিবদ্ধ মোট খেলোয়াড়দের প্রায় অর্ধেক।
ওয়াল্টার ব্যাখ্যা করেন, “আমরা চাই না শুধু হাতেগোনা কয়েকজন ক্রিকেটার আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা পাক, বরং পুরো সিস্টেমকেই আমরা শক্তিশালী করতে চাই। বর্তমানের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ যুগে অনেক ক্রিকেটার নানা দিকে ব্যস্ত থাকে, তাই আমাদের নিশ্চিত করতে হয় যে, যেকোনো অবস্থায় যেকোনো দলের বিপক্ষে লড়াই করার মতো ক্রিকেটার আমাদের হাতে যেন তৈরি থাকে।”
এদিকে, মিরপুরে পা রেখেই বাংলাদেশের তীব্র গরমের চ্যালেঞ্জ টের পেয়েছে কিউইরা। প্রথম দিনের অনুশীলনেই প্রচণ্ড গরমে ঘাম ঝরাতে হয়েছে ডিন ফক্সক্রফট-অ্যাডিলে রসিদদের। কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নেওয়ার সময় খুব কম পেলেও এটা নিয়ে কোনো অজুহাত দিতে রাজি নন কোচ। তার মতে, তারা জানতেন কন্ডিশন এমন হবে এবং মানসিকভাবেই তারা সেই চ্যালেঞ্জ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত।