BN

লিটনের ব্যাটিংই আমাদের ম্যাচ জিতিয়েছে, বললেন শান্ত

লিটনের ব্যাটিংই আমাদের ম্যাচ জিতিয়েছে, বললেন শান্ত

সংবাদ সম্মেলন তখন প্রায় ১৬ মিনিট পার হয়ে গেছে। একের পর এক

সংবাদ সম্মেলন তখন প্রায় ১৬ মিনিট পার হয়ে গেছে। একের পর এক প্রশ্ন আসছিল শেষ দিনের স্নায়ুচাপ, নাটকীয়তা আর অবিস্মরণীয় সিরিজ জয় নিয়ে। ম্যাচের প্রথম দিনের গল্পটা যেন ঢাকা পড়ে যাচ্ছিল সব উন্মাদনার আড়ালে। ঠিক তখনই প্রথম ইনিংসে লিটন দাসের সেই অনবদ্য সেঞ্চুরি নিয়ে একটা প্রশ্ন উঠল।

প্রশ্নটা শুনেই মুখে চওড়া হাসি ফুটল অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর। বললেন, “খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটা প্রশ্ন করলেন। আমি এতক্ষণ ধরে আশা করছিলাম যে প্রথম দিনের এই ব্যাপারটা নিয়ে কেউ অন্তত একটা প্রশ্ন করুক…।”

আসলে সিলেটের এই জয়ের ভিতটা গড়া হয়েছিল সেই প্রথম দিনেই। সেদিন যদি লিটন ওই অতিমানবীয় ইনিংসটি না খেলতেন, তবে বাংলাদেশ হয়তো ম্যাচ থেকে ছিটকে যেত প্রথম দিনেই। সবুজ ঘাস আর মেঘলা আকাশের নিচে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে চরম বিপর্যয়ে পড়েছিল দল। মাত্র ১১৬ রানেই ৬ উইকেট নেই! লিটন তখন মাত্র ২ রানে অপরাজিত, অথচ অপর প্রান্তে কোনো স্বীকৃত ব্যাটসম্যানই আর বাকি নেই।

সেখান থেকেই লেজের সারির ব্যাটসম্যানদের নিয়ে বুক চিতিয়ে লড়াই শুরু করেন লিটন। খেলেন ১২৬ রানের এক মহাকাব্যিক ইনিংস। তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ আর শরিফুল ইসলামদের যোগ্য সঙ্গী বানিয়ে ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে দলকে নিয়ে যান ২৭৮ রানে।

সেই ইনিংসের ওপর ভর করেই নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানকে ৭৮ রানে হারিয়ে হোয়াইটওয়াশ করল বাংলাদেশ। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরির পর দ্বিতীয় ইনিংসেও ৬৯ রানের কার্যকর এক ইনিংস খেলে ম্যাচের সেরা ক্রিকেটার হন লিটনই।

অধিনায়ক শান্তর পরিষ্কার কথা, এই জয়ের সিংহভাগ কৃতিত্ব লিটনের ওই প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরির। সংবাদ সম্মেলনে আলাদা করে লেজের ব্যাটসম্যানদের প্রশংসাও করলেন অধিনায়ক:

“আমার চোখে লিটনের এই ইনিংসটা অসাধারণ। দলের জন্য খেলা কাকে বলে, ও সেটাই দেখিয়েছে। আমি বলব, এটা ওর ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা ইনিংস। পাশাপাশি তাইজুল ভাই, তাসকিন, শরিফুল, রানাকেও কৃতিত্ব দিতে হবে। ওই কঠিন পরিস্থিতিতে লিটন ভাই যেভাবে দায়িত্ব নিয়ে ব্যাটিং করেছেন, তাতেই বোঝা যায় আমরা একটা বড় দল হওয়ার পথে এগিয়ে যাচ্ছি।”

ড্রেসিংরুমের ভেতরের গল্পটা জানিয়ে শান্ত আরও বলেন:

“ড্রেসিংরুমে আমাদের সবার বিশ্বাস ছিল যে তাইজুল ভাই উইকেটে টিকে থাকবেন আর লিটন রান তুলতে থাকবে। মাঠ থেকে লিটনও একবার আমার কাছে মেসেজ পাঠিয়েছিল যে ও ঠিক কোন কৌশলে এগোবে। আমাদের মধ্যে দারুণ যোগাযোগ হচ্ছিল। সত্যি বলতে, এই টেস্ট জয়ের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব লিটনের ওই সময়ের ব্যাটিংয়ের। ওটা না হলে আমরা প্রথম ইনিংসেই অনেক পিছিয়ে পড়তাম।”

ক্যারিয়ারে এই নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো টেস্টে ম্যাচসেরা হলেন লিটন। মজার ব্যাপার হলো, দুটিই পাকিস্তানের বিপক্ষে এবং দুবারই দল যখন খাদের কিনারে, তখন সেঞ্চুরি করে। এর আগে ২০২৪ সালে রাওয়ালপিন্ডিতে মাত্র ২৬ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর ১৩৮ রানের এক অবিশ্বাস্য ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা হয়েছিলেন তিনি।

সর্বশেষ সংবাদ

সাফ উইমেন’স চ্যাম্পিয়নশিপের দিনক্ষণ যতই ঘনিয়ে আসছে, বাংলাদেশ শিবিরের

টেস্ট ক্রিকেটে গত ২৬ বছরের পথচলায় এবারের দলটাই কি

তাইজুল ইসলামের বলে বোল্ড হয়ে যখন ড্রেসিংরুমে ফিরছিলেন, রাগে-ক্ষোভে

ফুটবল

সাফ উইমেন’স চ্যাম্পিয়নশিপের দিনক্ষণ যতই ঘনিয়ে আসছে, বাংলাদেশ শিবিরের ব্যস্ততাও

ক্রিকেট

টেস্ট ক্রিকেটে গত ২৬ বছরের পথচলায় এবারের দলটাই কি বাংলাদেশের

ক্রিকেট

তাইজুল ইসলামের বলে বোল্ড হয়ে যখন ড্রেসিংরুমে ফিরছিলেন, রাগে-ক্ষোভে নিজের

ক্রিকেট

পুরস্কারটা অনায়াসেই পেতে পারতেন তাইজুল ইসলাম। দুর্দান্ত বোলিংয়ের জন্য বিবেচনা