BN

৩৯ বছর বয়সে এসে ক্যারিয়ারের প্রথম সিরিজসেরা মুশফিক

৩৯ বছর বয়সে এসে ক্যারিয়ারের প্রথম সিরিজসেরা মুশফিক

পুরস্কারটা অনায়াসেই পেতে পারতেন তাইজুল ইসলাম। দুর্দান্ত বোলিংয়ের জন্য বিবেচনা করা যেত

পুরস্কারটা অনায়াসেই পেতে পারতেন তাইজুল ইসলাম। দুর্দান্ত বোলিংয়ের জন্য বিবেচনা করা যেত নাহিদ রানাকেও। তালিকায় থাকার মতো নাম ছিল আরও দুই-একটা। কিন্তু সব হিসেব-নিকেশ শেষে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজসেরার ট্রফিটা উঠল মুশফিকুর রহিমের হাতে। ৩৯ বছর বয়সে এসে, ক্যারিয়ারের এই গোধূলিলগ্নে যেন এক অদ্ভুত ‘প্রথম’-এর স্বাদ পেলেন তিনি।

আর মাত্র ছয় দিন পরেই টেস্ট ক্রিকেটে তার পথচলার ২১ বছর পূর্ণ হবে। বাংলাদেশের একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে খেলেছেন একশর বেশি টেস্ট। দেশের হয়ে টেস্টে সবচেয়ে বেশি রান আর সেঞ্চুরির মালিকও তিনি। কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি, ২১ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এই প্রথম টেস্ট ক্রিকেটে ‘ম্যান অব দ্য সিরিজ’ হলেন মুশফিক।

মিরপুরে প্রথম টেস্টে তার ব্যাট থেকে এসেছিল ৭১ ও ২২ রান। এরপর সিলেটে প্রথম ইনিংসে ২৩ রানে আউট হলেও, দ্বিতীয় ইনিংসে খেলেন ১৩৭ রানের এক চমৎকার ইনিংস। দুই দল মিলিয়ে সিরিজে সর্বোচ্চ ২৫৩ রান এসেছে তার ব্যাট থেকেই, গড় ছিল ৬৩.২৫।

অবশ্য এক সিরিজে এর চেয়ে বেশি রান মুশফিক আগেও করেছেন। ২০২২ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩০৩ রান, গত বছরের সিরিজে ২৭৩ এবং ২০১৮ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে করেছিলেন ২৭০ রান। তবে সিরিজের সেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতিটা তোলা ছিল এই পাকিস্তানের বিপক্ষেই।

১০২টি টেস্ট খেলা এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার অবশ্য নিজের চেয়ে দলের অর্জন নিয়েই বেশি আনন্দিত। নিজের সেঞ্চুরির চেয়েও ম্যাচের প্রেক্ষাপটে প্রথম ইনিংসে লিটনের শতরানকে অনেক এগিয়ে রাখছেন মুশফিক:

“এটা আসলেই অনেক বড় একটা ব্যাপার। দলের সব ছেলেই এই সিরিজ জয়টা পাওয়ার যোগ্য ছিল। বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেটে গত ২-৩ বছর ধরে ওরা যেভাবে খেলছে, তা সত্যিই দারুণ। আর সত্যি বলতে, প্রথম ইনিংসে লিটনের সেঞ্চুরিটা ছিল অসাধারণ। ওটাই আমাদের ম্যাচে টিকিয়ে রেখেছিল। ওই ইনিংসের পর ড্রেসিংরুমের মনোবল চাঙ্গা হয়ে যায়, আমরা লিটনের জন্যও ভালো কিছু করতে চেয়েছিলাম।”

প্রথম ইনিংসে ৪৬ রানের লিড পাওয়ার পর দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৯০ রান তোলে বাংলাদেশ। তবে মুশফিক জানালেন, তাদের লক্ষ্য ছিল আরও বড় স্কোর গড়া:

“উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য বেশ ভালো ছিল। আমাদের প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল অন্তত ৪০০ থেকে ৪৫০ রান পার করা। কারণ আমরা জানতাম এটা পঞ্চম দিনের গতানুগতিক ভাঙা উইকেট হবে না। তবে আমাদের বোলাররা একদম লাইন-লেন্থ মেনে বল করেছে, এই জয়ের সব কৃতিত্ব ওদেরই।”

এতগুলো বছর ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চাপ সামলে, এত চড়াই-উতরাই পেরিয়েও এখনো মাঠে পারফর্ম করার পেছনে আসল রহস্য বা প্রেরণা কী? মুশফিক শোনালেন সেই চিরচেনা তাড়নার গল্প:

“সহজ কথায়, এখনো সুস্থভাবে বেঁচে আছি আর দেশের হয়ে খেলতে পারছি—এটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রেরণা। দেশের হয়ে খেলাটা মোটেও সহজ কোনো বিষয় নয়। এর জন্য প্রতিনিয়ত কঠোর পরিশ্রম করতে হয়, নিজেকে যোগ্য প্রমাণ করে তবেই মাঠে নামতে হয়। আমি এখন স্রেফ নিজের খেলা আর জীবনটাকে উপভোগ করছি।”

সর্বশেষ সংবাদ

সাফ উইমেন’স চ্যাম্পিয়নশিপের দিনক্ষণ যতই ঘনিয়ে আসছে, বাংলাদেশ শিবিরের

টেস্ট ক্রিকেটে গত ২৬ বছরের পথচলায় এবারের দলটাই কি

তাইজুল ইসলামের বলে বোল্ড হয়ে যখন ড্রেসিংরুমে ফিরছিলেন, রাগে-ক্ষোভে

ফুটবল

সাফ উইমেন’স চ্যাম্পিয়নশিপের দিনক্ষণ যতই ঘনিয়ে আসছে, বাংলাদেশ শিবিরের ব্যস্ততাও

ক্রিকেট

টেস্ট ক্রিকেটে গত ২৬ বছরের পথচলায় এবারের দলটাই কি বাংলাদেশের

ক্রিকেট

তাইজুল ইসলামের বলে বোল্ড হয়ে যখন ড্রেসিংরুমে ফিরছিলেন, রাগে-ক্ষোভে নিজের

ক্রিকেট

লাল বলের ক্রিকেটে বাংলাদেশ আর পাকিস্তান যেন দুটি ভিন্ন দুই