সাফ উইমেন’স চ্যাম্পিয়নশিপের দিনক্ষণ যতই ঘনিয়ে আসছে, বাংলাদেশ শিবিরের ব্যস্ততাও তত বাড়ছে। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিটা নিখুঁতভাবে ঝালিয়ে নিতে ঘাম ঝরাচ্ছেন সাবিনা-ঋতুপর্ণারা। দলের তারকা ফরোয়ার্ড ঋতুপর্ণা চাকমা স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, এবারও শিরোপা ধরে রাখার অটুট লক্ষ্য নিয়েই তারা ভারতের মাটিতে পা রাখবেন।
আগামী সোমবার থেকে ভারতের গোয়ায় শুরু হতে যাচ্ছে দক্ষিণ এশিয়ার মেয়েদের ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ এই আসর। ২০২২ ও ২০২৪ সালের ব্যাক-টু-ব্যাক চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের সামনে এবার হ্যাটট্রিক শিরোপা ঘরে তোলার হাতছানি।
এই মেগা টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে বুধবার থাইল্যান্ডের এলপাইন ট্রেনিং গ্রাউন্ডে তীব্র গরমের মাঝেই কঠোর অনুশীলন করেছে দল। বাফুফের মাধ্যমে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় ঋতুপর্ণা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, ব্যাংককের এই বৈরি আবহাওয়ায় নেওয়া প্রস্তুতি ভারতে মাঠের লড়াইয়ে তাদের অনেক এগিয়ে রাখবে।
“আমরা এখানে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে প্রচণ্ড গরম আর রোদের মধ্যে কঠোর অনুশীলন করেছি। দলের সব খেলোয়াড় এখন পুরোপুরি প্রস্তুত। সাফে আমরা আমাদের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করব। আমরা একটা সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে এখানে এসেছি আর আমাদের মূল লক্ষ্যই হলো শিরোপা ধরে রাখা। দলের সবাই শারীরিক ও মানসিকভাবে দারুণ অবস্থায় আছে। এখানে যে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ আমরা খেললাম, সেটি মূল টুর্নামেন্টে আমাদের পারফরম্যান্সে বড় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”
দেশবাসীর উদ্দেশে এই উইঙ্গার বলেন:
“দেশবাসীর কাছে আমার একটাই চাওয়া, আপনারা যেভাবে সবসময় আমাদের সমর্থন দিয়ে গেছেন, আগামীতেও যেন সেই ভালোবাসা ধরে রাখেন। আমাদের এভাবে সাপোর্ট করে যান, আমরা আপনাদের নিরাশ করব না।”
আগামী ২৮ জুন মালদ্বীপের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে এবারের সাফ মিশন শুরু করবে বাংলাদেশ। এরপর ৩১ জুন গ্রুপ পর্বের হাইভোল্টেজ ম্যাচে মুখোমুখি হবে স্বাগতিক ভারতের। মূল টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ব্যাংককের এই কন্ডিশনিং ক্যাম্প থেকে মেয়েরা অনেক কিছু শিখতে পেরেছে বলে মনে করেন প্রধান কোচ পিটার জেমস বাটলার।
কোচ বাটলার তার প্রতিক্রিয়ায় জানান:
“আমি বাফুফে কর্মকর্তাদের প্রতি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ যে, তারা অনেক কষ্ট করে আমাদের এই ক্যাম্পটি করার সুযোগ করে দিয়েছেন। এই ক্যাম্পটি দলের জন্য এক ঝলক তাজা বাতাসের মতো কাজ করেছে। যেকোনো ক্যাম্প থেকেই ভালো ও মন্দ দুটো দিকই বেরিয়ে আসে। আর এটা তো চিরন্তন সত্য যে, ভালো সময়ের চেয়ে খারাপ পরিস্থিতি থেকেই মানুষ বেশি শিখতে পারে। সংক্ষেপে বলতে গেলে—ক্যাম্পটি দারুণ হয়েছে। আশা করি, সামনে আমরা এমন আরও সুযোগ পাব।”
ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিয়ে এই ব্রিটিশ কোচ আরও বলেন:
“সামনের দিনগুলোর কথা ভাবলে আমার ভালো লাগে এই কারণে যে—আমি এখানে থাকি বা না থাকি, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আমরা মিলে এমন একটা শক্ত ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছি, যা ভবিষ্যতের সাফল্যের পথ দেখাবে; সেটা সাফ হোক কিংবা এশিয়ান কাপের মতো বড় কোনো মঞ্চই হোক না কেন।”