তাইজুল ইসলামের বলে বোল্ড হয়ে যখন ড্রেসিংরুমে ফিরছিলেন, রাগে-ক্ষোভে নিজের ব্যাট দিয়ে মাঠের পাশের বিজ্ঞাপন বোর্ডে এক আঘাত করে বসলেন পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান। মাঠের ভেতর এমন আচরণ করে এবার পার পেলেন না তিনি, আইসিসির কাছ থেকে পেলেন শাস্তি।
সিলেট টেস্টে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্তা সংস্থা আইসিসির আচরণবিধি ভাঙার দায়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তিরস্কার করা হয়েছে সালমান আলি আগাকে। সেই সাথে পাকিস্তানের এই ব্যাটসম্যানের নামের পাশে যোগ হয়েছে একটি ডিমেরিট পয়েন্ট।
দুই ম্যাচ সিরিজের শেষ টেস্টে পাকিস্তানকে ৭৮ রানে হারিয়ে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সালমানের এই শাস্তির কথা নিশ্চিত করে আইসিসি।
মূলত আইসিসির আচরণবিধির লেভেল-১ এর ২.২ ধারাটি ভাঙার অপরাধে সালমানকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। এই ধারায় স্পষ্ট বলা আছে, আন্তর্জাতিক ম্যাচ চলাকালীন মাঠের কোনো সরঞ্জাম, পোশাক বা ক্রিকেটীয় সামগ্রীর অপব্যবহার করা যাবে না।
ঘটনাটি ঘটেছিল ম্যাচের চতুর্থ দিন, অর্থাৎ মঙ্গলবার পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসের ৮২তম ওভারের সময়। বিশাল রান তাড়া করতে নেমে মোহাম্মদ রিজওয়ানের সাথে দারুণ এক শতরানের জুটি গড়ে পাকিস্তানকে জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছিলেন সালমান। কিন্তু হঠাৎই বাংলাদেশের বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলামের বলে বোল্ড হয়ে যান ৩২ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান। সাজঘরে ফেরার পথে মেজাজ হারিয়ে ব্যাট দিয়ে মাঠের বাউন্ডারির ধারের বিজ্ঞাপন বোর্ডে সজোরে আঘাত করেন তিনি, যা টিভি ক্যামেরায় পরিষ্কার দেখা যায়।
ম্যাচ রেফারি জেফ ক্রোর দেওয়া এই শাস্তি এবং নিজের অপরাধ সালমান মেনে নিয়েছেন। তাই আলাদা করে কোনো আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন পড়েনি।
গত ২৪ মাসের মধ্যে এটি সালমানের দ্বিতীয় অপরাধ। এর ফলে তার নামের পাশে মোট ডিমেরিট পয়েন্ট দাঁড়াল দুইয়ে। কাকতালীয়ভাবে, এর আগের অপরাধটিও তিনি করেছিলেন বাংলাদেশের বিপক্ষেই, চলতি বছরের ১৩ মার্চ ঢাকার মাঠে একটি ওয়ানডে ম্যাচ চলাকালীন।